কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব পীর আবদুর রহমান হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ঘটনার দুই দিন পার হলেও এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং এ পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফলে পুরো ঘটনা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন, উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আবদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে একটি দরবার পরিচালনা করতেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে একটি পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ত্রিশ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ঘিরে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে সহিংস পরিস্থিতিতে রূপ নেয়।
গত শনিবার দুপুরের দিকে শতাধিক মানুষ দরবার এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা দরবারে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ওই সময় ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পীর আবদুর রহমান নিহত হন।
পরবর্তীতে দরবারের একতলা ভবন ও টিনশেড ঘরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আগুন নেভাতে পরে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হন, তবে অধিকাংশই নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দীর্ঘ একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বড় দল স্লোগান দিতে দিতে দরবারে প্রবেশ করছে এবং পরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালাচ্ছে।
নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান জানান, পারিবারিকভাবে তারা মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষায়, “যে ঘটনা ঘটে গেছে, তা আর ফেরানো সম্ভব নয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় জড়াতে চাই না।” তিনি আরও জানান, এ সিদ্ধান্তে কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব নেই এবং এটি সম্পূর্ণ পারিবারিক সিদ্ধান্ত।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পরিবার প্রথমে মামলা করবে বলে জানিয়েছিল, তবে পরে তারা আর থানায় আসেনি। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে। তবে মামলা না হওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এগোচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | দৌলতপুর উপজেলা, কুষ্টিয়া |
| নিহত | পীর আবদুর রহমান |
| ঘটনার সময় | শনিবার দুপুরের পর |
| ঘটনার কারণ | সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুরোনো ভিডিওকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা |
| আইনগত অবস্থা | এখনো কোনো মামলা হয়নি, কেউ আটক হয়নি |
| ক্ষয়ক্ষতি | দরবার ভবন ও ঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ |
| আহত | একাধিক ব্যক্তি আহত (প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী) |
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, মামলা না হওয়া এবং তদন্ত অনিশ্চিত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শুরু না হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্তকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
