দৌলতপুরে গুলিতে বিএনপি কর্মী রফিক নিহত, আহত দু’জন

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ছোড়া গুলিতে স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. রফিক ওরফে রাফি (৫৫) নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। নিহত রফিক পচাভিটা গ্রামের মৃত মতালীর ছেলে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে দৌলতপুরে বিএনপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, রফিক দুর্ঘটনার সময় বাজারের একটি দোকানে বসে ছিলেন। হঠাৎ মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে তার দিকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। গুলিবিদ্ধ হওয়া অন্যান্য দুইজন—রবজেল ফরাজি ও ইউসুফ—প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, গুলির শব্দে বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় মানুষজন নিরাপদ স্থানে চলে যান।

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সোলায়মান শেখ বলেন, “লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল তৈরি করা হয়েছে। আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাজ চলছে।” তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বশত্রুতার কারণে ঘটতে পারে। তবে সঠিক কারণ তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে।

ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এমন ধরনের সশস্ত্র হামলা এলাকায় দুশ্চিন্তা ও আতঙ্ক তৈরি করেছে। বাজারের দোকানদার ও সাধারণ জনসাধারণ বর্তমানে সতর্কভাবে চলাচল করছেন।

রফিক স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। তিনি নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতেন। স্থানীয় নেতারা বলছেন, তাঁর হত্যার খবর শুনে রাজনৈতিক ও সাধারণ মানুষ গভীর শোকাহত। দলের নেতারা এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে দৌলতপুর থানায় ঘটনার কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য ও সাক্ষ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশ্বাস দিয়েছে, দায়িত্বশীলভাবে তদন্ত পরিচালনা করে দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করা হবে।

এই ঘটনায় কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা পুলিশের কাছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।