দৌলতদিয়া বাসডুবি: পরিচয় নিশ্চিত ১২ যাত্রীর, উদ্ধার অভিযান তৎপর অব্যাহত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এ পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলা থেকে ওঠা ১২ জন যাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলের পর থেকে তাদের মধ্যে পাঁচজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর থেকে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যেখানে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর বাস টার্মিনাল থেকে আটজন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। পথে খোকসা কাউন্টার থেকে আরও চারজন যাত্রী ওঠেন। কুমারখালী থেকে ওঠা পরিবারগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • গিয়াস উদ্দিন রিপন, স্ত্রী লিটা খাতুন, দুই সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭) ও আয়েশা বিন্তে গিয়াস (১৩)। তারা ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন। পরিবারের ছোট মেয়ে আয়েশা বিন্তে গিয়াস নিখোঁজ।
  • ঝিনাইদহের শৈলকূপার মো. নুরুজ্জামান, স্ত্রী আয়েশা আক্তার, সন্তান নওয়ারা আক্তার (৪) ও আরশান (৭ মাস)। আরশান ও আয়েশা আক্তার নিখোঁজ।
  • খোকসা কাউন্টার থেকে ওঠা রাজিব বিশ্বাস (২৮) ও শিশু ইসরাফিল (৩), যারা এখনও উদ্ধার হয়নি।

সৌহার্দ্য পরিবহনের কুমারখালী কাউন্টার মাস্টার তন্বয় আহমেদ জানান, বাসটি দুপুরে ছয়টি সিটে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায়, কিন্তু পথে আরও যাত্রী ওঠে। সবমিলিয়ে চালক ও হেলপারসহ বাসে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাসের ভেতরে এখনও বিপুল সংখ্যক যাত্রী আটকা রয়েছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী প্রায় ৪০ জনের মরদেহ পানির নিচে থাকতে পারে।

উদ্ধার কার্যক্রমকে তীব্র স্রোত, ভাঙা বাস ও প্রতিকূল পরিবেশ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। ডুবুরি দল ক্রেন ও বিশেষ উদ্ধার যন্ত্র ব্যবহার করে ধীরে ধীরে বাসের ভেতর থেকে নিখোঁজদের উদ্ধার করতে চেষ্টা করছে।

নিচে দুর্ঘটনার প্রাথমিক তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
দুর্ঘটনার তারিখ ও সময়২৫ মার্চ ২০২৬, বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিট
দুর্ঘটনার স্থানদৌলতদিয়া ফেরিঘাট, রাজবাড়ী, পদ্মা নদী
বাসের তথ্যসৌহার্দ্য পরিবহন, মোট যাত্রী ~৫০
কুষ্টিয়া থেকে ওঠা যাত্রী৮ জন, উল্লেখযোগ্য: গিয়াস উদ্দিন রিপন ও পরিবার
খোকসা কাউন্টার থেকে ওঠা যাত্রী৪ জন, উল্লেখযোগ্য: মো. নুরুজ্জামান ও পরিবার, রাজিব বিশ্বাস
মৃতের সংখ্যা২ নারী
নিখোঁজ যাত্রীপ্রাথমিকভাবে ৪০ জন
উদ্ধার অভিযানফায়ার সার্ভিস: ২ ডুবুরি, ২ সহকারী, ৫ সদস্যের বিশেষ দল
উদ্ধার চ্যালেঞ্জতীব্র স্রোত, ভাঙা বাস, পানির নিচে আটকা যাত্রী

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পদ্মা নদীর মতো বৃহৎ নদীতে যাত্রীবাহী যানবাহন ডুবে যাওয়ার ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে ফেরিঘাট ও নদীপথ পারাপারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। দ্রুত ও কার্যকরী উদ্ধার ব্যবস্থার মাধ্যমে নিখোঁজদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব।

উদ্ধারকারীরা আশা করছেন, ধীরে ধীরে বাসটি সম্পূর্ণভাবে তোলার মাধ্যমে নদীর ভেতর থেকে আরও যাত্রীদের মরদেহ বা জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রস্তুত রেখে তৎপরভাবে কার্যক্রম তদারকি করছেন।