বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও প্রার্থনার পরিবেশ বিরাজ করছে। এমন এক আবেগঘন সময়ে তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে বলেছেন, মায়ের এমন কঠিন সময়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তাঁর একার হাতে নেই। তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তারেক রহমান জানান, বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বলেন, এই দুঃসময়ে দল-মত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে তাঁর মায়ের রোগমুক্তি কামনা করছেন, তা তাঁদের পরিবারের জন্য গভীর আবেগ ও কৃতজ্ঞতার বিষয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন এবং শুভানুধ্যায়ীদের দোয়া ও সহমর্মিতা তাঁদের পরিবারকে মানসিকভাবে শক্তি জোগাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান তাঁর পোস্টে আরও জানান, রাষ্ট্রের প্রধান উপদেষ্টা বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি বিদেশি বিশেষজ্ঞরাও আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাঁর চিকিৎসায় যুক্ত রয়েছেন। একই সঙ্গে বন্ধুসুলভ কয়েকটি দেশ উন্নত চিকিৎসা সুবিধা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজে আসতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান লেখেন, এমন সংকটকালে একজন সন্তানের জন্য মায়ের পাশে ছুটে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা স্বাভাবিক, মানবিক এবং আবেগপ্রবণ। তবে বাস্তবতা হলো, বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতির জটিলতার কারণে দেশে ফেরা তাঁর একক সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর উল্লেখ করে তিনি এ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকে রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, তিনি আশা করেন রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে এলে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশে ফেরার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাঁর মতে, এই প্রত্যাবর্তন কেবল ব্যক্তিগত নয়, রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে আপাতত তিনি দেশের বাইরে থেকেই মায়ের চিকিৎসার খোঁজখবর রাখছেন এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর রাতে মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শে বেগম খালেদা জিয়াকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিন চিকিৎসকরা জানান, তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়েছে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এরপর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নিয়মিত বুলেটিন প্রকাশ করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এখনও নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান।
বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া মাহফিল ও কর্মসূচি পালন করছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর চিকিৎসা নিয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় তারেক রহমানের বক্তব্য শুধু একটি পারিবারিক আবেগের
