দেশের ভেতরে অবস্থানরত ভোটারদের জন্য চালু করা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৬ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) বৃহস্পতিবার বেলা দুইটা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপভিত্তিক এই পোস্টাল ভোট ব্যবস্থার মাধ্যমে ডাক বিভাগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৬ লাখ ৮১ হাজার ৮১৯ জন ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন।
ব্যালট গ্রহণকারীদের মধ্যে ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৩৭৬ জন ভোট দিয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫০ জন ভোটার ব্যালট পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সের মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিয়েছেন। এর ফলে, ডাকযোগে প্রেরিত ব্যালটের ৬ লাখ ৪৮ হাজার ২৯৪টি ইতিমধ্যেই রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে।
নিম্নে ডাকযোগে পাঠানো এবং রিটার্ন হওয়া ব্যালটের বিশদ তথ্য একটি টেবিল আকারে দেওয়া হলো:
| বিবরণ | মোট সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ডাকযোগে প্রেরিত ব্যালট | 7,60,898 | ভোটারদের কাছে পাঠানো হয়েছে |
| ব্যালট গ্রহণ করেছেন | 6,81,819 | মোট প্রাপ্তি শতাংশ ≈ 89.5% |
| ভোট দিয়েছেন | 6,74,376 | গ্রহণকারীদের মধ্যে ভোট দেওয়ার হার ≈ 98.9% |
| পোস্ট অফিস/ডাকবাক্সে জমা | 6,69,950 | ভোটারদের মধ্যে জমা দেওয়ার হার ≈ 99.3% |
| রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে | 6,48,294 | মোট প্রেরিতের মধ্যে ≈ 85.2% |
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের ভেতরে অবস্থানরত ভোটার যারা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারবেন না, তাদের জন্য এই অ্যাপভিত্তিক পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা কার্যকর একটি বিকল্প। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে, এবং ভোটাররা সহজে তাদের ভোট প্রেরণ করতে পারছেন।
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, পোস্টাল ভোটের প্রতিটি ধাপ—ব্যালট প্রেরণ, গ্রহণ, ভোট প্রদান এবং রিটার্ন—তদারকি করা হচ্ছে। যাতে কোনো ধরনের বিলম্ব বা তথ্য বিভ্রাট না ঘটে। এটি দেশের ভেতরে অবস্থিত ভোটারদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করছে এবং ভোটের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই পোস্টাল ভোট ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশেষত সরকারি কর্মকর্তা, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মী এবং দেশের ভেতরে অবস্থানরত অন্যান্য ভোটাররা, যারা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেন না, তারা সক্রিয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হচ্ছেন।
