ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেশের ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির দপ্তরে আয়োজিত এক কর্মশালায় এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এতে দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ কিশোর এবং ৪৩ শতাংশ কিশোরী পর্যাপ্ত শারীরিক শ্রমে লিপ্ত নয়।
গবেষণা অনুযায়ী, দেশের ১১ শতাংশ কিশোর-কিশোরী বর্তমানে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার সমস্যায় ভুগছে। ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রামীণ কিশোর-কিশোরীরা শহরের তুলনায় বেশি শারীরিকভাবে সক্রিয়। বিভাগীয় পর্যায়ে ঢাকা বিভাগের কিশোরদের এবং রাজশাহী বিভাগের কিশোরীদের মধ্যে নিষ্ক্রিয়তার হার সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের তুলনায় কিশোরদের মধ্যে নিষ্ক্রিয়তা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও কিশোরীদের ক্ষেত্রে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।
নিষ্ক্রিয়তার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে কম্পিউটার ও মুঠোফোনের অত্যধিক ব্যবহারকে দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া ঘুমের অভাবও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে; মাত্র ৪০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর সুযোগ পায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থী খেলাধুলায় অংশ নিলেও একটি বড় অংশ প্রযুক্তিগত আসক্তির কারণে ঘরের বাইরে যেতে অনীহা প্রকাশ করে। তবে আশার কথা এই যে, প্রায় ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন হেঁটে বা সাইকেলে চড়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে।
কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন যে, শারীরিক কর্মকাণ্ডের এই অভাব ভবিষ্যতে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে। বিশেষজ্ঞরা স্কুল পর্যায়ে শরীরচর্চা বাধ্যতামূলক করা এবং প্রতিটি এলাকায় খেলার মাঠ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ানো কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ভালো রাখে না, বরং এটি জাতীয় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিশোর-কিশোরীদের এই স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জিলাইভ/টিএসএন
