দেশের ১১টি জেলায় পৃথক ও সমন্বিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে মজুত ও অননুমোদিতভাবে পরিবহনকৃত জ্বালানি তেল জব্দ করেছে প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এসব অভিযানে মোট প্রায় ২০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি অবৈধ মজুত, চোরাই বাণিজ্য, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে আটজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ২৯৬ লিটার অকটেন ও ডিজেল জব্দ করা হয়। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অবৈধভাবে মজুত রাখা প্রায় দুই হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে বিভিন্ন দোকান ও গুদাম থেকে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন জব্দ করা হয়।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নদীতে নোঙর করা একটি ট্রলার থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়। সেখানে প্রায় ৩২০০ লিটার ডিজেল এবং ৩০০০ লিটার পেট্রোল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট একটি ফিলিং স্টেশনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
নোয়াখালীর হাতিয়ায় পৃথক অভিযানে ১৩৩০ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ করা হয় এবং এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া এলাকায় একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ২৩২০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয় এবং তিনজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই জেলার নেছারাবাদ এলাকায় আরও বড় পরিসরে অভিযান চালিয়ে ৪০১৮ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়।
ফরিদপুরে অবৈধভাবে জ্বালানি পরিবহনের সময় ৩২০ লিটার ডিজেলসহ একজনকে আটক করা হয় এবং অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জব্দকৃত তেল সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।
নওগাঁর মহাদেবপুরে একটি ট্রেডার্স প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ৪১২ লিটার পেট্রোল ও অকটেন জব্দ করা হয়। ঢাকার কেরানীগঞ্জে লাইসেন্সবিহীনভাবে মজুত করা ৮২৩ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়।
মানিকগঞ্জে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইভাবে ঢাকার নবাবগঞ্জ ও দোহার এলাকায় ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘনের দায়ে একজন ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সার্বিকভাবে এসব অভিযান অবৈধ মজুতদারি, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরেছে। জনস্বার্থে বাজার নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
জেলাভিত্তিক অভিযানের সারসংক্ষেপ
| জেলা/এলাকা | জব্দকৃত জ্বালানি (লিটার) | অভিযানের ধরন | গৃহীত ব্যবস্থা |
|---|---|---|---|
| আগারগাঁও | ২৯৬ | অবৈধ মজুত ও বিক্রয় | জরিমানা |
| মাধবদী | প্রায় ২০০০ | গুদাম অভিযান | জব্দ |
| কলাপাড়া | ৬২০০ | ট্রলার থেকে জব্দ | জরিমানা |
| হাতিয়া | ১৩৩০ | চোরাই তেল উদ্ধার | গ্রেফতার |
| ভাণ্ডারিয়া | ২৩২০ | গুদাম অভিযান | জরিমানা |
| নেছারাবাদ | ৪০১৮ | অবৈধ মজুত | জরিমানা |
| ফরিদপুর | ৩২০ | পরিবহন আটক | জরিমানা ও জমা |
| মহাদেবপুর | ৪১২ | ট্রেডার্স অভিযান | জব্দ |
| কেরানীগঞ্জ | ৮২৩ | লাইসেন্সবিহীন মজুত | জরিমানা |
| মানিকগঞ্জ ও নবাবগঞ্জ | উল্লেখ নেই | অতিরিক্ত মূল্য ও বিক্রয় | জরিমানা |
