ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, দেশের দুর্নীতি এখনো চলমান এবং রাজনৈতিক ও সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার বিভিন্ন মহলে দলবাজি, দখল ও চাঁদাবাজি হিসেবে প্রকাশ পাচ্ছে। তবে গত বছরের তুলনায় দুর্নীতি বেড়েছে নাকি কমেছে, তা যাচাই করার তুলনামূলক তথ্য নেই।
রবিবার ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বর্তমান সরকারের সময় আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া সম্ভব ছিল, কিন্তু তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের বিশ্লেষণ পুরো মেয়াদ জুড়ে সরকারের কার্যক্রমের ওপর তৈরি করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “গত ৫৪ বছর, বিশেষ করে শেষ ১৫ বছরে সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সময় লেগেছে। রাজনৈতিক দলগুলো এই সুযোগ গ্রহণ করবে কিনা তা আগামী নির্বাচনের ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলবে।”
টিআইবি ব্যবসা খাতের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হলে ব্যবসায়ীরাই উপকৃত হবেন। অন্যথায় একশ্রেণির ব্যবসায়ী সুবিধা পাবে এবং অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের জন্য একটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা, তবে সম্পর্ক উন্নতির সুযোগ এখনও রয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি নির্বাচন ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ৫২টি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু মূল বিষয় হলো:
| বিষয় | প্রস্তাবিত পদক্ষেপ |
|---|---|
| সুশাসন | সরকারী কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা |
| গণতন্ত্র | নির্বাচনী পরিবেশের স্বচ্ছতা, ভোটাধিকার নিশ্চিত করা |
| সম-অধিকার | লিঙ্গ, বর্ণ ও জাতিগত বৈষম্য দূর করা |
| অপরাধ তদন্ত | অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির মামলা তদন্ত করা |
| সংস্কার কমিশন | সুপারিশ বাস্তবায়ন ও সংবিধানিক সংস্কার আনা |
| ব্যবসা খাত | প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, একপক্ষীয় সুবিধা এড়ানো |
| আন্তর্জাতিক সম্পর্ক | প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন |
সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের এবং আউটরিচ পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টিআইবির এই উদ্যোগ সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে নৈতিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের পথে প্রেরণা দিতে পারে। বিশেষ করে দুর্নীতি, প্রশাসনিক অপব্যবহার ও ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা নিয়ন্ত্রণে এনে দেশের সুশাসন ও অর্থনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
