সরকারি প্লট ও ফ্ল্যাটের বিক্রয়, হস্তান্তর ও নামজারি প্রক্রিয়ায় ঘুষ সিন্ডিকেটের প্রভাব থেকে অবশেষে মুক্তি পাচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা। এখন থেকে লিজদাতা কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা আর মধ্যস্থতা করবে না। জমি কেনাবেচার মতোই দলিল রেজিস্ট্রি অফিসে সম্পন্ন হবে। ফলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ঘুরে সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হবে না। জমি কেনার পর নামজারি ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সহকারী কমিশনার বা এসি ল্যান্ডের অফিসে সম্পন্ন হবে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা হয়রানি, দুর্নীতি ও জিম্মিদশা থেকে মুক্তি মিলবে।
বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনটি গেজেট আকারে জারি করতে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, রোববার সন্ধ্যায় প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন প্রশাসন অনুবিভাগ-১-এর উপসচিব ড. মো. নুরুল আমিন। এরপর রাতেই প্রজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পূর্ত মন্ত্রণালয় এটিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে।
জারি প্রজ্ঞাপনে সাতটি মূল নির্দেশনা রয়েছে:
১. লিজদাতার অনুমোদনের প্রথা বাতিল। নামজারি, হস্তান্তর, বিক্রয়, দান বা হেবা, দলিল সম্পাদন ও ঋণ অনুমোদনে অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। তবে প্লট বিভাজন, একত্রীকরণ বা মাস্টারপ্ল্যান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রথা থাকবে।
২. দলিল গ্রহণের সময় ভূমি হস্তান্তরে দলিল মূল্যের ২% (ফ্ল্যাটসহ) ও ৩% (শুধু প্লট) হারে অর্থ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে জমা দিতে হবে।
৩. হস্তান্তরের ৯০ দিনের মধ্যে দলিলের সার্টিফাইড কপি লিজদাতার কাছে জমা দিতে হবে; ব্যর্থ হলে দৈনিক ৫০ টাকা করে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হবে। হালনাগাদ রেকর্ড ক্রেতাকে ই-মেইল বা ডাকের মাধ্যমে জানানো হবে।
৪. লিজ মেয়াদ শেষে স্বয়ংক্রিয় নবায়ন হবে; হস্তান্তর ফি প্রযোজ্য হবে না, তবে মাস্টারপ্ল্যান পরিবর্তন ছাড়া।
৫. আবাসিক ব্যতীত অন্যান্য প্লট বা ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে লিজদাতার অনুমোদনের প্রথা থাকবে।
৬. মালিকানা বিরোধ বা বিশেষ বরাদ্দকৃত কিছু প্লট/ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রথা প্রযোজ্য হবে।
৭. প্রজ্ঞাপনের অধীনে অনুমোদন ছাড়া আবাসিক প্লট/ফ্ল্যাটের তালিকা তফশিল আকারে প্রকাশ হবে এবং পরে সংশোধনের ক্ষমতা থাকবে।
জিলাইভ/টিএসএন
