এরনাকুলাম জেলা ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। কমিশন জানিয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার দাবি অস্বীকার করা এবং ভোক্তাকে চিকিৎসা ব্যয়ের ফেরত না দেওয়া একটি অন্যায় বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া এবং ভোক্তা সেবায় স্পষ্ট ঘাটতি। এই নির্দেশটি এসেছে পল্লারিমঙ্গলামের বাসিন্দা কে এম মুইউদ্দিন কর্তৃক ওরিয়েন্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এবং মেডিসেপ এর বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ থেকে।
ঘটনার পটভূমি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অভিযোগকারী জিপের সঙ্গে সংঘর্ষে বাঁ পায়ে গুরুতর আঘাত পান এবং কোলেঞ্চেরি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তিনি মোট ৯৪,২৭৬ রুপি চিকিৎসা ব্যয়ের ফেরতের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু ওরিয়েন্টাল ইন্স্যুরেন্স এটি প্রত্যাখ্যান করে, তারা জানান যে, হাসপাতাল তালিকাভুক্ত নয় এবং সেক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যয় ফেরত শুধুমাত্র জরুরি পরিস্থিতিতে অনুমোদিত। তারা আরও যুক্তি দেন যে অভিযোগকারী মেডিসেপের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া ব্যবহার করেননি।
কমিশন অভিযোগটি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, রাজ্যের অর্থ দপ্তর এবং ইন্স্যুরারের মধ্যে ২৭ জুন ২০২২ সালের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনাকে জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে তালিকাভুক্ত নয় এমন হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয়ও ফেরতযোগ্য।
এছাড়াও কমিশন সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশনার উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছে যে, বিমার শর্তাবলীতে কোনো অস্পষ্টতা থাকলে তা ভোক্তার অনুকূলে ব্যাখ্যা করতে হবে। যেহেতু অভিযোগকারী মেডিসেপের অভ্যন্তরীণ নিষ্পত্তি পদ্ধতি ব্যবহার করেননি, তাই ওরিয়েন্টালের এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ভোক্তা আইন অনুসারে প্রদত্ত প্রতিকার অন্যান্য আইনি প্রতিকারকে সীমাবদ্ধ করে না।
কমিশনের নির্দেশের সারসংক্ষেপ
| বিষয় | নির্দেশ / সিদ্ধান্ত |
|---|---|
| অভিযোগকারী | কে এম মুইউদ্দিন, পল্লারিমঙ্গলাম |
| বীমা কোম্পানি | ওরিয়েন্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি |
| মেডিকেল পরিষেবা প্রদানকারী | মেডিসেপ, কোলেঞ্চেরি মেডিকেল কলেজ |
| চিকিৎসা ব্যয় | ৯৪,২৭৬ রুপি |
| সুদ | ৯% বার্ষিক |
| মানসিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ | ২০,০০০ রুপি |
| মামলা ব্যয় | ৫,০০০ রুপি |
| কমিশনের সিদ্ধান্ত | সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় ফেরত, সুদ, মানসিক ক্ষতিপূরণ ও মামলা ব্যয় প্রদান বাধ্যতামূলক |
কমিশন আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, অভিযোগকারীর চিকিৎসা ব্যয় ফেরত না দেওয়া, সেবায় ঘাটতি এবং অযৌক্তিকভাবে দাবি প্রত্যাখ্যান করা একটি স্পষ্ট ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন। এছাড়াও, এটি ভবিষ্যতে ভোক্তাদের সুরক্ষা এবং বীমা কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত আচরণের মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
এর মাধ্যমে কমিশন ভোক্তাদের জানিয়েছে যে, জরুরি পরিস্থিতিতে তালিকাভুক্ত নয় এমন হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয়ও বীমা থেকে ফেরত পাওয়া সম্ভব, এবং কোনো অস্পষ্ট শর্ত ভোক্তাদের ক্ষতি করতে পারে না। এই রায় ভোক্তা অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।