গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ফাসিতলা-কলাহাটি এলাকায় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় অটোভ্যান ও ট্রাক্টরের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাটি অল্প মুহূর্তের মধ্যে সংঘটিত হলেও তার প্রভাব এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে আলু বোঝাই একটি অটোভ্যান গোবিন্দগঞ্জের ফাসিতলা দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে একটি ট্রাক্টর তেল বোঝাই করে আসছিল। ফাসিতলা-কলাহাটি এলাকায় পৌঁছালে উভয় যানবাহন মুখোমুখি সংঘর্ষের শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোভ্যানের মালিক মুনছুর আলী (৪৫) এবং হেলপার রানা মিয়া (৩৫) মারা যান।
ঘটনার পর ট্রাক্টরের চালক পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশকে দ্রুত তদন্ত শুরু করতে হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মোজাফফর হোসেন জানান, “প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ যাচাই করা হচ্ছে। ট্রাক্টরের চালককে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”
নিহতদের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে এবং শিবগঞ্জে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, মুনছুর আলী ছিলেন এলাকার পরিচিত ব্যবসায়ী এবং রানা মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তার সাথে কাজ করতেন।
এই ধরনের দুর্ঘটনা স্থানীয় সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও যানবাহনের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ঘটে থাকে। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হওয়ায় সেখানে ট্রাক্টর, অটোভ্যান এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক যানবাহনের চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
নিচের টেবিলে দুর্ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| দুর্ঘটনার স্থান | যানবাহন involved | নিহতের নাম ও বয়স | ঘটনা সময় | বাড়ির ঠিকানা | পরিস্থিতি |
|---|---|---|---|---|---|
| ফাসিতলা-কলাহাটি, গোবিন্দগঞ্জ | অটোভ্যান ও ট্রাক্টর | মুনছুর আলী, ৪৫; রানা মিয়া, ৩৫ | ২৪ জানুয়ারি, সন্ধ্যা | শিবগঞ্জ, বগুড়া | ট্রাক্টরের চালক পালিয়ে গেছে |
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যানজটের শিকার হন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিস্কার করেন এবং আহতদের সাহায্যার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশ জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, “বাড়তি ভাড়া বোঝাই বা দ্রুত গতিতে যাত্রী পরিবহনের সময় সড়কে সতর্ক থাকা আবশ্যক। না হলে আরও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
এই ঘটনায় ফের একবার সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব উঠে এসেছে। স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী করা হচ্ছে, মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দ্রুত ট্রাফিক সাইন, গেট ও রোড ফ্ল্যাশার বসানো এবং চালকদের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হোক।
