বগুড়ার আদমদীঘিতে মাত্র ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে পালাক্রমে ধ/র্ষ/ণে/র ঘটনায় পুলিশ দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে। আদমদীঘি থানার পুলিশ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে অভিযুক্তদের আটক করে এবং সোমবার ভিকটিমকে আদালতে ডাক্তারি পরীক্ষা ও জবানবন্দী গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত অনুযায়ী, বড়আখিড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ওই কিশোরী হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে। ৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রাইভেট পড়াশোনার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তাকে প্রতারণার মাধ্যমে ডেকে নেয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সজল দাস ওরফে সঞ্জয় (১৭) প্রথমে কিশোরীকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেয়। সেখানে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শিপন কুমার সরকার (২০) উপস্থিত ছিলেন।
দুই আসামী কিশোরীকে একটি কক্ষে আটকিয়ে মুখ বেঁধে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পালাক্রমে ধ/র্ষ/ণ করে। ঘটনার পর তারা কিশোরীকে হুমকি দেয় যে, যদি তিনি কাউকে বিষয়টি জানান, তাহলে তাদের হ//ত্যা/ করা হবে এবং আগেই ধারণকৃত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
ভিকটিমের মা রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ রাতেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। আদমদীঘি থানার ওসি আতাউর রহমান জানিয়েছেন, “/ধ/র্ষ/ণে/র শিকার কিশোরী এবং অভিযুক্তদের ডাক্তারি পরীক্ষা ও জবানবন্দী গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।”
স্থানীয় সমাজে এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কিশোরী সুরক্ষা, স্কুলপাড়ার নিরাপত্তা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তারা আরও বলেন, শিশুদের সঙ্গে এমন ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।
নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য ও অভিযুক্তদের বিবরণ তুলে ধরা হলো:
| তথ্য বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ভিকটিম | ১৪ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী, বড়আখিড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪র্থ শ্রেণি |
| /ধ/র্ষ/ণে/র তারিখ ও সময় | ৯ জানুয়ারি, সকাল ১১:৩০ টা |
| ঘটনা স্থান | বড়আখিড়া মন্ডলপাড়া, আদমদীঘি উপজেলা |
| আসামী ১ | শিপন কুমার সরকার, ছেলে, বয়স ২০, শ্রী নেপাল চন্ত্র সরকারের ছেলে |
| আসামী ২ | সজল দাস ওরফে সঞ্জয়, ছেলে, বয়স ১৭, শ্রী সত্যনাথ দাসের ছেলে |
| মামলার তারিখ | ১৮ জানুয়ারি, বাদী ভিকটিমের মা |
| পুলিশি ব্যবস্থা | দুই আসামী গ্রেফতার, ভিকটিম ও আসামিদের ডাক্তারি পরীক্ষা ও জবানবন্দী আদালতে নেওয়া |
উক্ত ঘটনায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় নিরাপত্তা ও কিশোরী সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
