দুই বছর আগে ইকরার জানতে পেরেছিলেন, আলভী বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মধ্যে রয়েছেন

ঢাকার মিরপুরে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেছেন। পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা দাবি করেছেন, ইকরার এই ট্র্যাজেডির পেছনে তার স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা মানসিক নির্যাতন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ইকরার বাবা কবির হায়াত খান বাদী হয়ে ঢাকার পল্লবী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জাহের আলভীকে এবং ২ নম্বর আসামি হিসেবে তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে। ইকরার বড় মামা শেখ তানভীর আহমেদ প্রথম আলোকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিবাহ ও দাম্পত্য জীবন

ইকরার সঙ্গে জাহের আলভীর প্রেমের সম্পর্ক ২০১৩ সালে বিবাহে পরিণত হয়। বিয়ের পাঁচ বছর পর দম্পতির এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। তবে দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকেই পারিবারিক চাপ ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

ইকরার পরিবার জানিয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে ইকরা জানতে পারেন যে জাহের আলভী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছেন। এর পর থেকে দম্পতির মধ্যে বিরোধ ক্রমবর্ধমান হয় এবং মানসিক চাপ বাড়তে থাকে।

মানসিক নির্যাতন ও উসকানিমূলক আচরণ

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জাহের আলভী এবং তার মা ইকরাকে নিয়মিত মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাহের আলভী ইকরাকে উদ্দেশ্য করে অপমানজনক পোস্ট করতেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি, তিনি এক নারীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করেন, যা ইকরার মানসিক কষ্ট আরও বাড়িয়ে তোলে।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের অপমান, উসকানি এবং মানসিক নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

ঘটনার দিন

২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ইকরার মামা এস এম জায়েদ আল ফাত্তাহকে ফোনে নাসরিন সুলতানা জানান যে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় ইকরা নিজের কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে ইকরাকে মৃত অবস্থায় দেখেন। পল্লবী থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন এবং ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বিষয়বিস্তারিত
ঘটনার তারিখ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
স্থানমিরপুর, ঢাকা
মৃত ব্যক্তির নামআফরা ইভনাথ খান ইকরা
বিবাহ২০১৩, জাহের আলভীর সঙ্গে
পুত্রসন্তান১ জন, বয়স ৫ বছর
১ নম্বর আসামিজাহের আলভী
২ নম্বর আসামিনাসরিন সুলতানা শিউলি
মামলা দায়ের স্থানপল্লবী থানা, ঢাকা
মামলা দায়ের তারিখ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (রোববার)
বাদীকবির হায়াত খান (ইকরার বাবা)

ইকরার পরিবার ও স্বজনরা দাবী করেছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন হওয়া উচিত। তারা আশা করছেন আইনের মাধ্যমে জাহের আলভী এবং নাসরিন সুলতানা যথাযথ শাস্তি পাবেন।

মৃত্যুর আগে ইকরার মানসিক চাপ ও পারিবারিক অশান্তি দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। পারিবারিক সহিংসতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি সমাজে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ইকরার এই দুঃখজনক ঘটনা মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব, পারিবারিক সহানুভূতি, এবং আইনি ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা নতুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

এই ঘটনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে যে, পরিবারের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে নারী এবং শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, এবং সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার গুরুত্ব অপরিসীম।