ভোরের আলো ফুটতেই কাউয়াদীঘি হাওর ও কুশিয়ারা নদীর জেলে–মৎস্যজীবীরা রাজনগরের ওয়াপদা–কাশিমপুর হাটে ছুটে আসেন। হাতের খালুই ও ডালা নিয়েই তারা মাছ আনা শুরু করেন, যা রাতভর জেলেরা ধরা থাকে। প্রায় অর্ধশত বছরের পুরনো এই হাটে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন সকালে মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য মাছের বাজার বসে। হাওর ও নদীর তাজা মাছ হওয়ায় হাটের চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে।
হাটে প্রতিদিন লাখ টাকারও বেশি মাছের কেনাবেচা হয়। মৌলভীবাজার শহরসহ দূরদূরান্তের ক্রেতারা ভোরেই উপস্থিত হন। শুক্রবার সকালে দেখা গেছে, বিক্রেতারা দৌড়ে এসে আড়তে মাছ নামাচ্ছেন। নিলামের ডাক ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতারা দাম বলতে থাকেন, আর সর্বোচ্চ দামেই মাছ বিক্রি হয়। নিলামের পর বিক্রেতারা নিজেদের অন্যান্য কেনাকাটা সারেন অথবা বাড়ির পথে রওনা দেন।
হাটের বড় অংশ ক্রেতা হচ্ছেন খুচরা বিক্রেতা, যারা এখান থেকে মাছ কিনে বিভিন্ন হাটে বা গ্রামে বিক্রি করেন। বাজারে পাওয়া যায় কই, চ্যাং, পুঁটি, মখা, কাকিয়া, বোয়াল, গ্রাস কার্প, কার্ফু, রুই, চিংড়ি, চাঁদা ও পুঁটা সহ নানান প্রজাতির মাছ।
মাছের সঙ্গে হাটে হাঁস–মোরগ, সবজি, পান–সিগারেটের দোকান ও চায়ের স্টলও থাকায় পুরো এলাকা জমজমাট হয়ে ওঠে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আশিক মিয়ার ভাষায়, “এই হাটে শুধু হাওর ও নদীর মাছই আসে, চাষের মাছ নয়।”
হাট সকাল ছয়টায় শুরু হয়ে আটটার আগেই শেষ হয়ে যায়। আড়তদার আকলু মিয়া জানিয়েছেন, “দুই আড়তেই প্রতিদিন লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়। এছাড়া আড়তের বাইরে আরও লেনদেন হয়ে থাকে।” হাটের কার্যক্রম অত্যন্ত দ্রুতগামী হওয়ায় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই সময়মতো উপস্থিত থাকতে হয়।
নিচের টেবিলে হাটের মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| হাটের নাম | ওয়াপদা–কাশিমপুর হাট, রাজনগর |
| অবস্থান | কাউয়াদীঘি হাওর ও কুশিয়ারা নদীর তীরে |
| কার্যকাল | সকাল ৬টা থেকে ৮টা |
| বিক্রিত মাছের পরিমাণ | প্রতিদিন লাখ টাকার বেশি |
| প্রধান ক্রেতা | খুচরা বিক্রেতা, দূরদূরান্তের ক্রেতা |
| মাছের প্রজাতি | কই, চ্যাং, পুঁটি, মখা, কাকিয়া, বোয়াল, গ্রাস কার্প, কার্ফু, রুই, চিংড়ি, চাঁদা, পুঁটা |
| অন্যান্য পণ্য | হাঁস–মোরগ, সবজি, পান–সিগারেট, চা |
| বিশেষত্ব | শুধুমাত্র হাওর ও নদীর তাজা মাছ বিক্রি হয়, চাষের মাছ নয় |
হাটটি রাঙামাটির স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন ভোরবেলা লক্ষাধিক মানুষের ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রমের কারণে স্থানীয় ব্যবসা ও জেলেদের আয় বৃদ্ধি পায়। হাটের জীবন্ত পরিবেশ এবং দ্রুতগতির লেনদেন পর্যটকদের জন্যও আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
