দীর্ঘ ২৭ বছর পর সুরে পুনর্মিলন আঁখি আলমগীর-মিল্টন খন্দকারের

দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর আবারও একই গানে একত্রিত হলেন জনপ্রিয় প্লেব্যাক শিল্পী আঁখি আলমগীর এবং গীতিকার–সুরকার মিল্টন খন্দকার। সময়ের ব্যবধানে বদলে গেছে সংগীতধারা, বদলেছে শ্রোতার রুচিও; তবু এই দুই শিল্পীর পুনর্মিলন সংগীতপ্রেমীদের কাছে তৈরি করেছে এক ধরনের নস্টালজিয়া ও নতুন প্রত্যাশা। তাদের নতুন গান ‘জোড়া শালিক’ শুধু একটি সংগীতকর্ম নয়, বরং স্মৃতি, অপেক্ষা ও সৃজনশীলতার মিলনবিন্দু।

১৯৯০–এর দশকের শেষ ভাগে আঁখি আলমগীর প্রথমবার মিল্টন খন্দকারের লেখায় কণ্ঠ দেন। তখন তিনি ‘আসামি বধূ’ সিনেমার জন্য ‘এত ছোট জনম নিয়া জগতে আসিয়া’ শিরোনামের গানটি গেয়েছিলেন। গানটির সুর করেছিলেন প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক আলম খান। সে সময় গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং বাংলা চলচ্চিত্রের সংগীতে একটি স্মরণীয় সংযোজন হিসেবে জায়গা করে নেয়। আবেগঘন কথা, হৃদয়ছোঁয়া সুর এবং আঁখি আলমগীরের কণ্ঠ মিলিয়ে গানটি আজও বহু শ্রোতার স্মৃতিতে অমলিন।

এরপর কেটে যায় দীর্ঘ ২৭ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে আলাদা আলাদা পথে কাজ করলেও একসঙ্গে নতুন কোনো মৌলিক গানে কাজ করা হয়নি তাদের। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল ‘জোড়া শালিক’ গানের মাধ্যমে। বিশেষ এই গানটি নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘বৈঠকখানা’র জন্য। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই গানেই প্রথমবারের মতো মিল্টন খন্দকারের লেখা ও সুর করা সম্পূর্ণ মৌলিক গানে কণ্ঠ দিলেন আঁখি আলমগীর।

অনুষ্ঠানের শুটিং চলাকালেই গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়। শুটিং সেটে দুজনের উপস্থিতিতে কাজটি আরও আবেগময় হয়ে ওঠে। পরে মিল্টন খন্দকার সামাজিক মাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, বহু বছর ধরে আঁখি আলমগীরের কণ্ঠে নিজের লেখা ও সুরের গান শোনার একটি অপূর্ণ ইচ্ছা তার মনে ছিল। অবশেষে সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়ায় তিনি এটিকে দীর্ঘদিন ঘুমিয়ে থাকা একটি গানের পুনর্জন্ম হিসেবে বর্ণনা করেন।

অন্যদিকে আঁখি আলমগীর বলেন, ‘জোড়া শালিক’ কোনো পুরোনো স্মৃতির পুনরাবৃত্তি নয়, বরং প্রাণবন্ত ও সতেজ একটি সৃষ্টি। বৈঠকখানার জন্য গানটি গাইতে পেরে তিনি আনন্দিত এবং মিল্টন খন্দকারের কথা ও সুরে কণ্ঠ দিতে পারাকে নিজের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই পুনর্মিলন কেবল ব্যক্তিগত আবেগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলা সংগীতাঙ্গনের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে এটি আঁখি আলমগীরের সংগীতযাত্রায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা, অন্যদিকে মিল্টন খন্দকারের সৃজনশীলতার ধারাবাহিকতা ও প্রাসঙ্গিকতার প্রমাণ। শ্রোতাদের জন্য ‘জোড়া শালিক’ তাই একই সঙ্গে স্মৃতির রেশ ও নতুন সুরের আহ্বান।

আঁখি আলমগীর ও মিল্টন খন্দকারের সংগীতযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

সময়কালঘটনাগুরুত্ব
১৯৯০-এর দশক‘আসামি বধূ’ সিনেমায় প্রথম সহযোগিতাশিল্পী হিসেবে পারস্পরিক সংযোগের সূচনা
১৯৯০-এর দশকগানটির দেশজুড়ে জনপ্রিয়তাশ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা
২০২০-এর দশক‘জোড়া শালিক’ রেকর্ডিংপ্রথম মৌলিক গানে একসঙ্গে কাজ
বর্তমানবৈঠকখানায় গানটির প্রচারদীর্ঘ অপেক্ষার পর সৃজনশীল পুনর্মিলন

সব মিলিয়ে, এই সহযোগিতা প্রমাণ করে যে সময় যতই পেরিয়ে যাক, সৃষ্টিশীল সম্পর্কের শক্তি কখনো ম্লান হয় না। ‘জোড়া শালিক’ সেই সত্যেরই সংগীতময় সাক্ষ্য।