দীর্ঘ যুদ্ধের বার্তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত এক সপ্তাহ পার হলেও যুদ্ধের থেমে যাওয়ার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। বরং ওয়াশিংটনের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আরব দেশগুলোর কয়েকজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।

রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সময় মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, অস্ত্রের মজুদ এবং সামরিক উৎপাদন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই যুদ্ধের লক্ষ্য সরাসরি ইরানের সরকার পরিবর্তন নয়। তবু একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানে ভিন্ন নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসুক।

রুবিও আরও বলেন, “বর্তমানে ইরানের বিদ্যমান সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপ নেই। আলোচনায় গেলে সামরিক লক্ষ্য অর্জনে তা বাধা সৃষ্টি করতে পারে।”

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছে, কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে যাতে যুদ্ধ দ্রুত থেমে যায়। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না।” ট্রাম্প আরও যোগ করেন, যদি ইরান আত্মসমর্পণ করে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নতুন গ্রহণযোগ্য ইরানি নেতাদের সঙ্গে কাজ করে দেশটির পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও যুদ্ধ দ্রুত সমাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। মার্কিন সরকারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বরং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আভাস স্পষ্ট।

নিম্নে সাম্প্রতিক ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য সংবলিত টেবিল দেওয়া হলো:

বিষয়বিবরণমন্তব্য
যুদ্ধকাল৭ দিন +চলমান
যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্রাগার, সামরিক স্থাপনাগুলোসরাসরি সরকার পরিবর্তন নয়
কূটনৈতিক প্রচেষ্টামধ্যস্থতা চেষ্টা করছে কয়েকটি দেশতাত্ত্বিক; প্রভাব অজ্ঞাত
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থাননিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনো চুক্তি নয়কঠোর
ইরানি সরকারের প্রতিক্রিয়াসংলাপ নেই, মধ্যস্থতা স্বীকারসংযমী

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বার্তা, রুবিও ও ট্রাম্পের মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, সংঘাত কমপক্ষে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে এবং তাতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক স্থিতি দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত হবে।