বাংলাদেশি ফুটবলের উঠতি তারকা কিউবা মিচেল এক মৌসুমের মাথায় কিংস ফুটবল ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে তিনি সান্ডারল্যান্ডের যুব দলের সঙ্গে খেলে সরাসরি কিংসে যোগ দিয়েছিলেন, যা তখন অনেকের কাছে বিস্ময়ের বিষয় ছিল। কিন্তু ক্লাবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন পরিশোধ না হওয়ায় এবং অনান্য সমস্যার কারণে মিচেলের এই যাত্রা বেশ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
আজ কিউবা মিচেল নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিস্তারিত জানান, ‘আজ আমি বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়টি সামনে রেখে কিংসের সঙ্গে আমার চুক্তি শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটিই ছিল আমার সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘নানা সমস্যা অমীমাংসিত থাকায় এমন পরিবেশে খেলা মানসিক ও শারীরিকভাবে কঠিন হয়ে উঠেছিল।’
বিদায় বার্তায় মিচেল বাংলাদেশি ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি ফুটবল আরও ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য। খেলোয়াড়দের জন্য আরও শক্তিশালী কাঠামো ও ন্যায্যতা থাকা দরকার।’
মিচেল তার কিংসে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেছেন। তার ভাষায়, ‘যদিও সময়টা অল্প ছিল, তবু তা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে এসে আমি এখানকার জীবনধারা, সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পেরেছি। কিছু দারুণ সতীর্থ ও সমর্থকের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, যারা আমাকে আপন করে নিয়েছে। তারা আমাকে আবার মনে করিয়ে দিয়েছে, কেন আমি এই খেলাটাকে ভালোবাসি।’
তিনি পুরো সময় জুড়ে পেশাদার আচরণ বজায় রেখেছেন এবং ক্লাবের জার্সির প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সতীর্থ খেলোয়াড়দেরও পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, বেতন না পাওয়া বা প্রতিশ্রুতি ভাঙার কারণে কোনো খেলোয়াড়ের নীরবে কষ্ট ভোগ করা উচিত নয়।
শেষ পর্যন্ত কিউবা মিচেল নিশ্চিত করেছেন, কোনো তিক্ততা ছাড়াই তিনি নতুন পথ অবলম্বন করবেন এবং নিজেকে আরও ভালোভাবে ফুটবলের জন্য প্রস্তুত করবেন।
কিউবা মিচেলের কিংস জার্নি – সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ক্লাব | কিংস ফুটবল ক্লাব |
| আগের ক্লাব | সান্ডারল্যান্ড যুব দল |
| অবস্থান | ফরোয়ার্ড / মিডফিল্ডার |
| সময়কাল | এক মৌসুম (২০২৫) |
| বিদায়ের কারণ | দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন, অনান্য সমস্যা |
| বার্তা | বাংলাদেশি ফুটবলের জন্য ন্যায্যতা ও কাঠামো প্রয়োজন |
| মনোভাব | পেশাদার, নতুন পথে অগ্রসর হওয়ার প্রত্যয় |
