দীপু দাস হত্যা মামলায় ময়মনসিংহ থেকে আরও দুজন গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস (২৭) হত্যার ঘটনায় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে সিয়াম আহম্মেদ (১৯) ও আবদুল্লাহ (২৮) নামে দুই যুবককে আটক করা হয়।

সিয়াম আহম্মেদ বাটাজোর ডাকুরিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। অন্যদিকে আবদুল্লাহ হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কড়ইতলা গ্রামের মো. ইদ্রিস আলীর ছেলে। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। এই অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতেই সিয়ামকে বাটাজোর ডাকুরিয়া এলাকা থেকে এবং আবদুল্লাহকে জামির দিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে দীপুর মরদেহ স্কয়ার মাস্টারবাড়ী মেইন রোডের গাছে ঝুলিয়ে রাখার সময় রশি টেনে স্লোগান দেয়। তারা জনতাকে উত্তেজিত করে লাশের ওপর নির্যাতন চালায় এবং উপস্থিত জনতাকে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়তে উৎসাহিত করত।”

এ পর্যন্ত দীপু হত্যা মামলায় মোট ২৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঘটনাস্থল: হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া।
ঘটনার সময়: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত।
প্রেক্ষাপট: ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে কারখানার কর্মী দীপু দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়, পরে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একটি গাছে ঝুলিয়ে মরদেহে আগুন ধরানো হয়।

দীপু দাসের ভাই, অপু চন্দ্র দাস, অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০–১৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

নিচের টেবিলে গ্রেপ্তার আসামিদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:

নামবয়সগ্রাম/ইউনিয়নপিতার নামগ্রেপ্তার স্থানআদালতে স্বীকারোক্তি
সিয়াম আহম্মেদ১৯বাটাজোর ডাকুরিয়াসাইফুল ইসলামবাটাজোর ডাকুরিয়াহ্যাঁ/না
আবদুল্লাহ২৮কড়ইতলা, হবিরবাড়িমো. ইদ্রিস আলীজামির দিয়াহ্যাঁ/না
অন্যান্য ২৩ জন২০–৩৫বিভিন্ন এলাকাবিভিন্ন এলাকাহ্যাঁ/না

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের সব তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের জন্য আদালতে প্রেরণ করা হবে।

স্থানীয়রা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সামাজিক সংগঠনগুলো হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে।

পুলিশ, র‍্যাব ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং হত্যার ঘটনায় যুক্ত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ড ময়মনসিংহে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তবে তদন্ত প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে এগোচ্ছে।