ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পাশবিকতার এক চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। মাত্র ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন কিশোরকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ। অভিযুক্তদের বয়স যথাক্রমে ১৩, ১৪ এবং ১৫ বছর। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর-পূর্ব দিল্লির ভজনপুরা এলাকায়, যা বর্তমানে ভারতের জাতীয় গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও নিষ্ঠুরতা
গত ১৮ জানুয়ারি উত্তর-পূর্ব দিল্লির ভজনপুরায় এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ এবং পুলিশি তদন্ত থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত তিন কিশোর শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে একটি নির্জন বাড়ির ছাদে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে পাশবিক নির্যাতন করে। ঘটনার পর শিশুটি রক্তাক্ত এবং বিধ্বস্ত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে আসে। প্রথমে ভয়ে সে পড়ে যাওয়ার অজুহাত দিলেও, তার শারীরিক অবস্থা এবং শরীরের ক্ষত দেখে মা নিশ্চিত হন যে এটি কোনো সাধারণ আঘাত নয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শিশুটি তার ওপর ঘটে যাওয়া নারকীয় নির্যাতনের বর্ণনা দেয়।
নিচে এই দুঃখজনক ঘটনার মূল তথ্যগুলো একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
সারণি: ভজনপুরা পাশবিকতা ও আইনি পদক্ষেপের সারসংক্ষেপ
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| ঘটনার স্থান | ভজনপুরা, উত্তর-পূর্ব দিল্লি, ভারত |
| ভুক্তভোগী | ৬ বছর বয়সী কন্যাশিশু |
| অভিযুক্তদের বয়স | ১৩, ১৪ এবং ১৫ বছর |
| আইনি ধারা | ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পকসো (POCSO) আইন |
| বর্তমান অবস্থা | অভিযুক্তরা পুলিশি হেফাজতে এবং শিশুটি চিকিৎসাধীন |
| আদালত | কিশোর বিচার বোর্ড (Juvenile Justice Board) |
মানবিক দৃষ্টান্ত ও তদন্ত প্রক্রিয়া
এই ঘটনায় একটি ব্যতিক্রমী মানবিক দিকও ফুটে উঠেছে। শিশুটির মা জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের করুণ অবস্থা দেখে এবং ঘটনার গুরুত্ব বুঝতে পেরে এক অভিযুক্ত কিশোরের মা নিজেই নিজ সন্তানকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এই পদক্ষেপ অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের একটি বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত তিন কিশোরই স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ করত বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
দিল্লির উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের পুলিশ সুপার আশীষ মিশ্র জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক ট্রমা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রফেশনাল কাউন্সেলিং প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার পারিপার্শ্বিক প্রমাণ সংগ্রহ করছে পুলিশ।
আইনি ব্যবস্থা ও বিচারিক শঙ্কা
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির পরিবর্তে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ এবং শিশুদের সুরক্ষায় কঠোর ‘পকসো’ (POCSO) আইনের অধীনে মামলা করা হয়েছে। যেহেতু অভিযুক্তরা নাবালক, তাই তাদের বিচারিক কার্যক্রম কিশোর আদালতে পরিচালিত হচ্ছে। ভারতের রাজধানী শহরে শিশুদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ক্রমবর্ধমান অপরাধ জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বিশেষ করে শিশুশ্রমিকদের মধ্যে এই ধরনের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে পারিবারিক শিক্ষার অভাব এবং সামাজিক অবক্ষয়কে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভুক্তভোগীর মা সাংবাদিকদের কাছে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনাটি দিল্লির বস্তি ও জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তার অভাবকে আবারও নগ্নভাবে প্রকাশ করে দিয়েছে। সমাজকর্মী ও আইনজীবীরা দাবি তুলছেন যে, অপরাধীদের বয়স বিবেচনা না করে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী যাতে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হয়।
