ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থানকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে এক নারীসহ দেখা যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পর্তুগালের ভিসা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি সম্প্রতি দিল্লি সফর করেন। তার সঙ্গে থাকা নারীকে তার নিকটাত্মীয় বলে দাবি করা হয়েছে।
জানা যায়, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য পর্তুগালের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সরাসরি ঢাকায় সম্পন্ন করা সম্ভব নয়; এজন্য দিল্লিতে অবস্থিত নির্ধারিত ভিসা গ্রহণকেন্দ্রে আবেদন করতে হয়। ফলে আবেদনকারীদের ভারতীয় ভিসা গ্রহণ বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মাহদী হাসান নিয়ম মেনে ভারতীয় ভিসা সংগ্রহ করে দিল্লিতে যান এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন দাখিল করেন। ভিসা গ্রহণকেন্দ্রটি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের পক্ষে আবেদন গ্রহণ, নথি যাচাই ও প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
মঙ্গলবার সকালে দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় অবস্থিত ওই ভিসা কেন্দ্রে মাহদী হাসানকে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অপেক্ষমাণ কক্ষে বসে ছিলেন এবং তার পাশেই সংশ্লিষ্ট নারী অবস্থান করছিলেন। একই সময়ে উপস্থিত আরেক ব্যক্তি তাকে চিনতে পেরে গোপনে ভিডিও ধারণ করেন বলে জানা গেছে। ধারণকারী ব্যক্তি অন্য একটি দেশের ভিসা আবেদনের উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
বেলা প্রায় এগারোটার দিকে তাকে শনাক্ত করা হয়। এর পরপরই তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে একাধিক অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসতে শুরু করে। সূত্রের ভাষ্যমতে, বিদেশের মাটিতে ধারাবাহিকভাবে অজানা নম্বর থেকে যোগাযোগের চেষ্টা তাকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও জানা যায়।
পরবর্তীতে ভিসা কেন্দ্র ত্যাগ করে তিনি পুরান দিল্লির জামা মসজিদ এলাকায় যান। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে তিনি দিল্লির বিভিন্ন স্থানে অবস্থানের চেষ্টা করলেও স্থায়ীভাবে কোথাও থাকতে পারেননি বলে একটি সূত্র দাবি করেছে।
বুধবার বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে দিল্লি থেকে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান মাহদী হাসান। সেখানে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তার ভ্রমণসংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার অভিযোগ, ভারতে অবস্থানকালে তিনি মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছেন।
নিচে ঘটনাপ্রবাহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো—
| সময় ও তারিখ | ঘটনাবিবরণ |
|---|---|
| মঙ্গলবার সকাল | কনট প্লেসে ভিসা কেন্দ্রে উপস্থিতি |
| বেলা প্রায় ১১টা | শনাক্ত হওয়া ও গোপনে ভিডিও ধারণ |
| দুপুর ২টা–২টা ৩০ | বাংলাদেশে পরিচিত মহলে খবর পৌঁছানো |
| পরবর্তী সময় | দিল্লির বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়ের চেষ্টা |
| বুধবার বিকাল ৩টা ৪০ | ঢাকায় প্রত্যাবর্তন ও ইমিগ্রেশনে জিজ্ঞাসাবাদ |
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র আরও জানায়, দিল্লি থেকেই ভিসা প্রাপ্তির পর পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষাপটে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
