দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। নিহত শিক্ষার্থীর নাম জুনাইদ (৯), তিনি স্থানীয় মোল্লা গোল্ডেন হোপ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা এবং স্কুলের শিক্ষার্থীরা দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়ক কিছু সময়ের জন্য অবরোধ করেন।
দুর্ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টার দিকে চিরিরবন্দর উপজেলার আমতলী বাজার এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, চারজন শিশু ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে স্কুলে যাচ্ছিল। ভ্যানটি স্কুলের সামনে পৌঁছালে ঢাকা অভিমুখী ‘আহাদ এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি বাস ভ্যানে ধাক্কা দেয়। এতে জুনাইদ সরাসরি রাস্তায় ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। ভ্যানে থাকা বাকি তিন শিশু এবং ভ্যানচালক আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাজ করছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা বলছেন, দুর্ঘটনার পেছনে স্পিড ব্রেকারের অভাব একটি প্রধান কারণ।
ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী স্কুলের সামনে অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করলে, সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, সড়কে স্পিড ব্রেকার স্থাপন এবং নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। স্কুল ও স্থানীয় প্রশাসনও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আহত ও নিহতদের বিস্তারিত তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| নাম | বয়স | স্থায়ী ঠিকানা | শ্রেণি | অবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| জুনাইদ | ৯ | চিরিরবন্দর ১৩ মাইল | প্রথম শ্রেণি | নিহত |
| আহত শিক্ষার্থী ১ | ৯ | চিরিরবন্দর ১৩ মাইল | প্রথম শ্রেণি | মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি |
| আহত শিক্ষার্থী ২ | ৮ | চিরিরবন্দর ১২ মাইল | প্রথম শ্রেণি | মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি |
| আহত শিক্ষার্থী ৩ | ৯ | চিরিরবন্দর ১৪ মাইল | প্রথম শ্রেণি | মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি |
| ভ্যানচালক | ৩৫ | চিরিরবন্দর উপজেলার আমতলী | — | মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি |
এই দুর্ঘটনার পর পুনরায় ফুটে উঠেছে স্থানীয় সড়ক নিরাপত্তার অভাব। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুল যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব হবে।
