দিনাজপুরে তীব্র কুয়াশা, কৃষক ও জনদুর্ভোগ

দিনাজপুর জেলার আকাশ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) হঠাৎ ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায়। হিমালয়ের পাদদেশের এই অঞ্চলটি সাধারণত শীতকালে কুয়াশার সঙ্গে পরিচিত, তবে আজকের কুয়াশা জনজীবন ও কৃষিকাজে বিশেষ প্রভাব ফেলেছে। মৃদু তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরও হঠাৎ ঘন কুয়াশা নেমে আসায় সড়ক পরিবহন, কৃষক ও সাধারণ মানুষ সবাই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৯টায় দিনাজপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বৃহস্পতিবারের ১৪.৪ ডিগ্রির তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি। তবে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে গাড়ি চলাচলে হেডলাইট চালু রাখাই বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে।

ঘটনার প্রভাব

  • সড়ক ও মহাসড়কে গাড়ি ধীরে চলাচল করছে।

  • বোরো ধান ও আলুর বীজতলা ক্ষতির আশঙ্কায় চাষিরা উদ্বিগ্ন।

  • সাধারণ মানুষ ও গবাদি পশু তীব্র শীতে কাহিল।

  • অনেক কৃষক বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগের রোদ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বীজতলা সুস্থভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ এই কুয়াশা এবং ঠাণ্ডা ধান ও আলুর চারা ক্ষয় করতে পারে।

মোসলেম উদ্দিন, বরল উপজেলার চাষি, বলেন, “কয়েকদিন আগে রোদ উঠেছিল এবং তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছিল। কিন্তু আজ হঠাৎ ঘন কুয়াশা পড়েছে। এতে বোরো ধান ও আলুর বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কা আছে।”
সদর উপজেলার শশরা ইউনিয়নের গহাইর গ্রামের মোকলেছুর রহমান জানান, “প্রচণ্ড শীতের কারণে বোরো বীজতলা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। অনেকে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন। বোরো চারা তৈরি হলেও শীত ও শ্রমিক সংকটের কারণে বীজ রোপণ করা যাচ্ছে না।”

তাপমাত্রার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

জেলাসর্বনিম্ন তাপমাত্রা (ডিগ্রি সেলসিয়াস)সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (ডিগ্রি সেলসিয়াস)পূর্বাভাস
দিনাজপুর১৪.৫২০.৩হালকা রোদ, দুপুরে কুয়াশা কমবে
২৯ জানুয়ারি১৪.৪১৯.৮রোদেলা

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, “গত কয়েকদিনে রোদ দেখা দিয়েছিল। তবে আজ হঠাৎ ঘন কুয়াশা নেমে এসেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা ধীরে ধীরে কমবে এবং জনজীবন স্বাভাবিক হবে।”

স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগও কৃষকদের সতর্ক করেছেন, বীজতলা ও বীজ রোপণের ক্ষেত্রে শীত ও কুয়াশার পরিস্থিতি বিবেচনা করতে। বিশেষ করে বোরো ধান ও আলু চাষিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে ক্ষতি কমানো যায়।