পবিত্র রমজান মাস শুরুর প্রাক্কালে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর সংলগ্ন স্থানীয় বাজারে স্বস্তির খবর মিলেছে। গত তিন দিনের ব্যবধানে হিলির কাঁচাবাজারে দেশি পেঁয়াজ ও রসুনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। মূলত দেশের বিভিন্ন মোকাম থেকে সরবারহ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই নিত্যপ্রয়োজনীয় এই দুই পণ্যের বাজার নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় এবং নিয়মিত তদারকির ফলে রমজানের মুখে এমন দাম কমায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বাজার পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হিলি কাঁচাবাজারের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, কেজিপ্রতি দেশি পেঁয়াজের দাম ১৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে। গত সপ্তাহে যে পেঁয়াজ ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো, বর্তমানে তা ৩০ টাকায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে, রসুনের বাজারেও বড় ধরণের পতন লক্ষ্য করা গেছে। মানভেদে যে রসুন আগে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো, তা বর্তমানে মাত্র ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে আদার বাজারে স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে; প্রতি কেজি আদা মানভেদে ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরেই বিক্রি হচ্ছে।
নিচে হিলি বাজারে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধান তিনটি পণ্যের দামের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| পণ্যের নাম | গত সপ্তাহের দাম (কেজিপ্রতি) | বর্তমান দাম (কেজিপ্রতি) | দাম কমার পরিমাণ |
| দেশি পেঁয়াজ | ৪৫ টাকা | ২৮ – ৩০ টাকা | ১৫ টাকা |
| দেশি রসুন | ১০০ – ১২০ টাকা | ৬০ – ৭০ টাকা | ৪০ – ৫০ টাকা |
| দেশি আদা | ১১০ – ১২০ টাকা | ১১০ – ১২০ টাকা | অপরিবর্তিত |
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া
হিলি বাজারে বাজার করতে আসা সাধারণ ক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করার ফলে পেঁয়াজ, রসুন ও আলুর মতো অতি প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেছে। বিশেষ করে রমজান মাসে যখন অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেয়, তখন এই ধরণের মূল্য হ্রাস সাধারণ মানুষের জন্য বড় প্রাপ্তি।
তবে বাজারের বিক্রেতা রায়হান কবির এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মোকামগুলোতে সরবরাহ বেড়েছে বলে আমরা কম দামে কিনে কম দামে বিক্রি করছি। কিন্তু বাজারে ক্রেতার সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কম। রমজানে সাধারণত ভিড় বাড়ে, এবার তেমনটি দেখা যাচ্ছে না।” তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, খুচরা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার চেয়ে বড় বড় মোকামগুলোতে অভিযান চালালে নিত্যপণ্যের দাম আরও নিয়ন্ত্রণযোগ্য পর্যায়ে আসবে।
প্রশাসনের ভূমিকা ও বাজার মনিটরিং
হাকিমপুর উপজেলা প্রশাসন বাজার স্থিতিশীল রাখতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা জানান যে, রমজান মাসে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যেন পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এই ধরণের তদারকি কার্যক্রম পুরো রমজান মাস জুড়ে অব্যাহত থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
সার্বিকভাবে, হিলির বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং নিয়মিত প্রশাসনিক নজরদারির ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ফিরছে নিত্যপণ্য। এই স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে আসন্ন ঈদুল ফিতর পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি সহনীয় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
