ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে রোববার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মানচেস্টার সিটি ও টটেনহ্যাম হটস্পারের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সমতা দেখা গেছে। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দুই দলই ২-২ গোলে ড্র করেছে। ম্যাচের প্রথমার্ধে দাপুটে খেলা দেখিয়েছে ম্যান সিটি, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ভাগ্যের ছোঁয়া ও চমৎকার ফিনিশিংয়ের ফলে টটেনহ্যাম ড্রতে শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
ম্যান সিটি ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। ১৪ মিনিটে এর্লিং হলান্ডের পারফেক্ট পাস থেকে রায়ান শেরকি ডি-বক্সের ভিতর থেকে কোনাকুনি শটে গোল করেন। প্রথমার্ধের শেষের দিকে বার্নার্দো সিলভার পাস থেকে অ্যান্টনিও সিমিওনে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-০ ব্যবধানে ম্যান সিটির পক্ষে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে টটেনহ্যাম ভাগ্যের সহায়তায় খেলা ফিরে আনে। ৫৩ মিনিটে ডমিনিক সোলাঙ্কি ডি-বক্সের ভিতর থেকে শট করেন, যা সিটি ডিফেন্ডার মার্ক গেইহির পায়ে লেগে জালে পৌঁছায়। ৭০ মিনিটে নিজেই দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচে সমতা আনেন সোলাঙ্কি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-২ গোলে সমাপ্ত হয়।
ম্যান সিটির কোচের মতে, “প্রথমার্ধে আমরা খুবই নিয়ন্ত্রণে ছিলাম, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আমরা আমাদের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।” অন্যদিকে, টটেনহ্যামের কোচ বলেন, “দল যেভাবে ফিরতি গোল করেছে, সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
এই ড্রয়ে ম্যান সিটির লিগে আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর সুযোগ নষ্ট হয়। ২৪ ম্যাচে ১৪ জয় ও ৫ ড্রয়ে ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে রয়েছে ম্যান সিটি। সমান ম্যাচে ১৪ নম্বরে টটেনহ্যাম ২৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের ঝুলিতে ৫৩ পয়েন্ট রয়েছে।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক প্রিমিয়ার লিগের অবস্থান ও পয়েন্টের সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো:
| দল | ম্যাচ | জয় | ড্র | পরাজয় | পয়েন্ট | অবস্থান |
|---|---|---|---|---|---|---|
| আর্সেনাল | ২৪ | ১৭ | ২ | ৫ | ৫৩ | ১ |
| ম্যানচেস্টার সিটি | ২৪ | ১৪ | ৫ | ৫ | ৪৭ | ২ |
| টটেনহ্যাম হটস্পার | ২৪ | ৮ | ৫ | ১১ | ২৯ | ১৪ |
ম্যান সিটির পক্ষে গোল করেছেন রায়ান শেরকি ও অ্যান্টনিও সিমিওনে, আর টটেনহ্যামের পক্ষে দুটোই গোল করেছেন ডমিনিক সোলাঙ্কি। এই ম্যাচটি প্রমাণ করেছে, লিগের শীর্ষ দলও কখনো কখনো টটেনহ্যামের মতো মধ্যপদস্থ দলের বিরুদ্ধে কঠিন মুহূর্তে পড়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত, এই ২-২ ড্রয়ে ম্যান সিটির শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান ৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আর টটেনহ্যামের জন্য এটি আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
