দায়িত্ব গ্রহণের ২৮ দিন পর কুসিক প্রশাসকের আয়-ব্যয় প্রকাশ

দায়িত্ব গ্রহণের ২৮ দিন পর কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) সার্বিক রাজস্ব আয়-ব্যয় এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির তথ্য প্রকাশ করেছেন নবনিযুক্ত প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।

রবিবার (১২ এপ্রিল) কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের অতীন্দ্রমোহন রায় সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য উপস্থাপন করেন। এ সময় সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়া এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসক জানান, গত ১৫ মার্চ পর্যন্ত কুসিকের রাজস্ব খাতে মোট আয় হয়েছে ৬১ কোটি ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬৪ টাকা। একই সময়ে ব্যয় হয়েছে ৩৭ কোটি ৯৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৮৬ টাকা। ফলে রাজস্ব খাতে বর্তমান স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ২৯ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭৮ টাকা।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিপুল অর্থ বরাদ্দ রয়েছে এবং এর একটি অংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব তথ্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কুসিকের বিভিন্ন প্রকল্প ও অর্থের অবস্থার একটি সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—

খাত/প্রকল্পআর্থিক স্থিতিমন্তব্য
রাজস্ব খাত২৩ কোটি ২৯ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭৮ টাকাআয়-ব্যয়ের পর অবশিষ্ট
সিআইডিপি প্রকল্প৩০১ কোটি ১০ লাখ ৭৫ হাজার ১২৭ টাকা১১টি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান
এলজিসিআরআরপি (কোভিড-১৯) প্রকল্প২ কোটি ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩৬ টাকাচলমান প্রকল্প তহবিল
ইউডিসিজিপি প্রকল্প৩৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৭ হাজার ৯ টাকাউন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যবহৃত
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)৪৬ কোটি ৭৬ লাখ ৫৮ হাজার ২১০ টাকা১০৯টি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট

প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের আয়-ব্যয়ের তথ্য প্রতি তিন মাস পরপর নগরবাসীর সামনে উপস্থাপন করা হবে। তিনি আরও জানান, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় থাকা ১০৯টি প্রকল্পের মধ্যে ৪১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার দরপত্র ইতোমধ্যে আহ্বান করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন, সেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির কাজ চলমান রয়েছে। প্রশাসনিক পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের স্বল্প সময়ের মধ্যেই কুসিক প্রশাসনের এই আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশকে নগর প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার একটি নিয়মিত উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।