ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও ছোট যানবাহনের চালকরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পাম্পে জ্বালানি না থাকায় কার্যত সেবা বন্ধ রয়েছে, আবার যেসব স্থানে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে সেখানে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, একাধিক ফিলিং স্টেশনে “জ্বালানি নেই” লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু পাম্পে অল্প পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ থাকলেও সেখানে একসঙ্গে বড় পরিমাণে বিক্রি না করে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাতে চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক আবু নাছের জানান, তার দৈনন্দিন কাজের জন্য অন্তত দুই লিটার জ্বালানি প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে পাম্পগুলোতে ১৫০ থেকে ২০০ টাকার বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না, যা তার কর্মপরিকল্পনায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে। একইভাবে আরেক চালক সোহেল বলেন, সীমিত জ্বালানির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে আয়ও কমে যাচ্ছে।
ফিলিং স্টেশন মালিকদের দাবি, মূল সমস্যা হচ্ছে ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়া এবং হঠাৎ করে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া। “সততা ফিলিং স্টেশন”-এর মালিক উত্তম পাল জানান, নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে “দাগনভূঞা ফিলিং স্টেশন”-এর মালিক আজমল হক সুমন বলেন, কিছু গ্রাহক বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে একাধিকবার জ্বালানি নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যার ফলে কৃত্রিম সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, এ সংকটের পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে সরবরাহ ঘাটতি, পরিবহন ও লজিস্টিক জটিলতা, হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি, মূল্য বৃদ্ধির গুজব এবং কিছু ক্ষেত্রে মজুতদারীর প্রবণতা। এসব কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।
বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান কারণ ও প্রভাব নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| কারণ | প্রভাব |
|---|---|
| সরবরাহ ঘাটতি | পাম্পে জ্বালানি সংকট ও বিক্রয় সীমিত |
| হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি | দ্রুত মজুদ শেষ হয়ে যাওয়া |
| পরিবহন ও লজিস্টিক সমস্যা | সময়মতো জ্বালানি পৌঁছাতে বিলম্ব |
| মূল্য বৃদ্ধির গুজব | অতিরিক্ত কেনাকাটার প্রবণতা বৃদ্ধি |
| কৃত্রিম মজুতদারি | বাজারে সংকট আরও তীব্র হওয়া |
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে এ সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের সংকট অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
