দর্শনায় দশ স্বর্ণবারসহ চোরাচালানী আটক

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত এলাকায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের দশটি স্বর্ণবারসহ আলমগীর খান (৫৫) নামে এক চোরাচালানকারীকে আটক করেছে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন। আটক ব্যক্তি দর্শনা মোবারকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

সোমবার ভোর আনুমানিক ছয়টার দিকে দর্শনা পুরাতন রেলস্টেশন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ পাচার সংক্রান্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দল পূর্ব থেকেই ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে সীমান্তের দিকে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হতে দেখা যায়। তাকে থামার সংকেত দেওয়া হলে তিনি তা অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে টহল দল ধাওয়া করে তাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করতে সক্ষম হয়।

আটকের পর উপস্থিত লোকজনের সামনে তার দেহ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় তার কোমরে বিশেষভাবে খাকি রঙের আঠালো টেপ দিয়ে মোড়ানো দুটি প্যাকেট পাওয়া যায়। প্যাকেট দুটি খুলে মোট দশটি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন এক কেজি একশত ছেষট্টি গ্রাম। প্রাথমিকভাবে এর বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি সাতচল্লিশ লাখ উননব্বই হাজার একশত ষাট টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া চোরাচালান কার্যক্রমে ব্যবহৃত একটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু পাচারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তের সংবেদনশীল রুটগুলো ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা বিভিন্ন কৌশলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে পাচারের চেষ্টা চালিয়ে থাকে। তবে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আকস্মিক অভিযানের মাধ্যমে এসব অপরাধ প্রতিরোধে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত স্বর্ণবারগুলো প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আটক আলমগীর খানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় চোরাচালান প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে দর্শনা ও পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি, নজরদারি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ আরও সক্রিয় করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের স্বর্ণ চোরাচালান কার্যক্রম রোধ করা যায়।

নিচে অভিযানের প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
ঘটনার স্থানদর্শনা পুরাতন রেলস্টেশন এলাকা
সময়সোমবার ভোর ছয়টা
আটক ব্যক্তিআলমগীর খান (৫৫)
উদ্ধারকৃত স্বর্ণদশটি স্বর্ণবার
মোট ওজনএক কেজি একশত ছেষট্টি গ্রাম
আনুমানিক মূল্যপ্রায় দুই কোটি সাতচল্লিশ লাখ টাকা
জব্দ সামগ্রীএকটি মুঠোফোন
অভিযান পরিচালনাকারীচুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও একবার দৃশ্যমান হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখার ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ স্বর্ণ পাচার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।