দরিদ্র প্রতিবেশীর কাছে হারল চ্যাম্পিয়ন পিএসজি

প্যারিসের ফুটবল ইতিহাসে এক সন্ধ্যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দুই দলের স্টেডিয়াম একেবারে একে অপরের পাশে হলেও সামাজিক ও আর্থিক শক্তির দিক থেকে আকাশ-পাতালের ফারাক। এই মৌসুমেই লিগে অভিষিক্ত প্যারিস এফসি এক অবিশ্বাস্য ফুটবল প্রদর্শন করে দারুণ চমক সৃষ্টি করল।

গতকাল রাতে ফ্রেঞ্চ কাপের শেষ ৩২-র ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) নিজেদের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে ১-০ গোলে হারল নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্যারিস এফসির কাছে। ঐ একমাত্র জয়ী গোলটি করে দলের সাবেক খেলোয়াড় জোনাথন ইকোনে, যিনি পিএসজিতে ফুটবলের হাতেখড়ি করেছিলেন।

গত ৫ জানুয়ারি লিগে একই প্রতিপক্ষের কাছে ২-১ গোলে হারের পর ফ্রেঞ্চ কাপে পিএসজি আরও ভেঙে পড়ল। ২০১৪ সালের পর এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো শেষ ৩২-তে বিদায় নিল তারা।

প্যারিস এফসির ঘর বর্তমান সময়ে তুলনামূলকভাবে শূন্য। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবের ইতিহাসে বড় কোনো অর্জন নেই, দলের মধ্যে নেই কোনো তারকা ফুটবলার। অথচ এই দলই ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী পিএসজিকে হারাল।

ম্যাচের পরিসংখ্যান নিম্নরূপ:

দলের নামশট মোটলক্ষ্যভিত্তিক শটগোলবলের দখল (%)সেভ (গোলকিপার)
প্যারিস সেন্ট জার্মেই২৫৭০%
প্যারিস এফসি৩০%

প্রথমার্ধে পিএসজি বেশিরভাগ সময় বলের দখল বজায় রেখেও বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বিরতির আগে খাভিচা কাভারেস্কেলিয়ার নেওয়া শট বাঁচালেন প্যারিস এফসির গোলকিপার ওবেদ এনকামবাদিও, যিনি শেষ পর্যন্ত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন।

দ্বিতীয়ার্ধের ৭৪ মিনিটে জোনাথন ইকোনে দুর্দান্ত ফিনিশিং দিয়ে একমাত্র গোলটি করেন। পিএসজি আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ক্রসবারে লেগে যাওয়া শটসহ ফিনিশিংয়ে ব্যর্থতা তাদের অভিশাপ হিসেবে রয়ে যায়।

ম্যাচ শেষে উচ্ছসিত ইকোনে বলেন, “আমরা রক্ষণভাগ ভালোভাবে সামলিয়েছি। আমার গোলের জন্য আমি খুব খুশি, এটি আনন্দময় মুহূর্ত। আশা করি এটি আমার শেষ গোল হবে না।”

ফ্রেঞ্চ কাপে চ্যাম্পিয়ন পিএসজির বিদায় এবং দুস্থ প্রতিবেশীর এই জয়কে ফুটবল প্রেমীরা ‘ডার্বি চমক’ হিসেবে বর্ণনা করছে। নগর প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন এই ম্যাচে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।