দন্নারুম্মার আগমনে ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়তে পারেন জেমস ট্রাফোর্ড

ম্যানচেস্টার সিটির তরুণ গোলরক্ষক জেমস ট্রাফোর্ড ইতিহাদ স্টেডিয়ামে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা প্রকাশ করেছেন। গত গ্রীষ্মে বার্নলি থেকে সিটিতে ফেরার পর ইতালীয় তারকা জিয়ানলুইজি দন্নারুম্মার আকস্মিক অন্তর্ভুক্তি ট্রাফোর্ডের ক্যারিয়ারের সমীকরণ বদলে দিয়েছে। বর্তমানে দলের দ্বিতীয় পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে সাইডবেঞ্চে থাকা এই ফুটবলার আগামী দলবদল মৌসুমে ক্লাব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

দলবদলের প্রেক্ষাপট ও আকস্মিক পরিবর্তন

২০২৪ সালের ৩১ জুলাই প্রায় ৩১ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে বার্নলি থেকে শৈশবের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে ফিরেছিলেন জেমস ট্রাফোর্ড। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, পেপ গার্দিওলা তাঁকে দলের প্রধান গোলরক্ষক হিসেবে সুযোগ দেবেন। আগস্ট মাসে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম তিনটি ম্যাচে তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন। কিন্তু নাটকের শুরু হয় ২ সেপ্টেম্বর, যখন পিএসজি থেকে ২৬ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে জিয়ানলুইজি দন্নারুম্মাকে দলে ভেড়ায় সিটি। গার্দিওলা ইতালীয় এই তারকাকে এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে ঘোষণা করলে ট্রাফোর্ড মূলত সাইডলাইনে চলে যান।

ট্রাফোর্ডের প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান অবস্থা

এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে স্যালফোর্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের পর ট্রাফোর্ড তাঁর পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি স্বীকার করেন যে, দন্নারুম্মার মতো একজনকে দলে আনা হবে সেটি তাঁর কল্পনাতীত ছিল। ট্রাফোর্ড বলেন, “আমি এই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলাম না, তবে এটি ঘটে গেছে। ফুটবল এমনই, এখানে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হয়। আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি এবং প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা থেকে শিখছি।”

নিচে ম্যানচেস্টার সিটিতে ট্রাফোর্ডের বর্তমান মৌসুমের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:

টেবিল: ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেমস ট্রাফোর্ডের অংশগ্রহণ

প্রতিযোগিতার নামম্যাচের সংখ্যাভূমিকা
প্রিমিয়ার লিগ০৩নিয়মিত (আগস্ট পর্যন্ত)
এফএ কাপ০৩নিয়মিত
কারাবাও কাপ০৩নিয়মিত
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ০২আংশিক
মোট উপস্থিতি১১

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ও বিশ্বকাপ ভাবনা

ক্লাব ফুটবলে অনিয়মিত হওয়া সত্ত্বেও গত নভেম্বরে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড দলে ডাক পেয়েছিলেন ট্রাফোর্ড। তবে আসন্ন জুনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া নিয়ে তিনি শঙ্কিত। জাতীয় দলের কোচের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো কথা হয়নি। ট্রাফোর্ড মনে করেন, বিশ্বকাপে জায়গা পেতে হলে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়া অপরিহার্য। দন্নারুম্মার দাপটে সিটিতে সেই সুযোগ সীমিত হওয়ায় তিনি এখন বিকল্প চিন্তা করছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

২০১৫ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে সিটির একাডেমিতে যোগ দেওয়া এই গোলরক্ষকের সঙ্গে ক্লাবের পাঁচ বছরের চুক্তি রয়েছে। চুক্তির মেয়াদ দীর্ঘ হলেও আগামী মৌসুমে তিনি অন্য কোনো ক্লাবে পাড়ি জমাতে পারেন। ট্রাফোর্ডের ভাষ্যমতে, “পরের মৌসুমে কী হবে তা আমি জানি না। বর্তমানে চুক্তিবদ্ধ আছি, তাই প্রতিদিন নিজের উন্নতিতে মনোযোগ দিচ্ছি। তবে ফুটবলে যেকোনো সময় যেকোনো কিছু হতে পারে।”

পেপ গার্দিওলার অধীনে সিটির গোলরক্ষক পজিশনে দন্নারুম্মা বর্তমানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ট্রাফোর্ডের মতো উদীয়মান তারকার জন্য এটি একটি বড় শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হলেও, ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে নিয়মিত ফুটবল খেলার তাড়না তাঁকে দলবদলের সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে।