দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বন্যায় নিহত ৯৩৩, লাখো মানুষ বিপর্যস্ত

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চারটি দেশে বন্যা, ভূমিধস এবং ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংসলীলায় অন্তত ৯৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অঞ্চলটির মালাক্কা প্রণালীতে বিরল ধরনের ঝড়ের প্রভাবে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সেখানকার হাজার হাজার মানুষ প্রভাবিত হয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৩৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ২০০ জন নিখোঁজ রয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া আঘাত হানায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, যার ফলে বহু পরিবার সম্পূর্ণভাবে অসহায় অবস্থায় পড়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, তবে দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছানো এখনও চ্যালেঞ্জের।

ইন্দোনেশিয়ায় মৃতের সংখ্যা ৪৩৫ এবং আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখানে প্রায়শই পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় ভূমিধসের ঝুঁকি বেশি। এখনও অনেক মানুষ বিপর্যস্ত এলাকায় আটকে রয়েছে। উদ্ধারকারী দল এবং সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণে কাজ করছে।

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে বন্যার কারণে ১৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের অধিকাংশই মালয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী প্রদেশের বাসিন্দা। সাতটি প্রদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত, যেখানে রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও রেড ক্রসের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মালয়েশিয়ায়ও বন্যার কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলীয় পেরলিস রাজ্যের অনেক অংশ এখনও পানির নিচে ডুবে রয়েছে। এতে দুইজনের মৃত্যু এবং হাজারো মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যদিও বন্যার পানি কমার এখনও কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই ধরণের তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন, ভারী বর্ষণ এবং তাপমাত্রার দ্রুত ওঠানামা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্ষাকাল ও ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুমে পূর্বাভাস ব্যবস্থা, দ্রুত উদ্ধার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

দূর্যোগের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে নিহত, নিখোঁজ ও বাস্তুচ্যুতদের বিস্তারিত তথ্য সংক্ষেপে নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো—

দেশমৃতনিখোঁজধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি/পরিস্থিতি
শ্রীলঙ্কা৩৩৪২০০+প্রায় ২০,০০০ ঘরবাড়ি ধ্বংস, জরুরি অবস্থা
ইন্দোনেশিয়া৪৩৫অজানাবিপর্যস্ত এলাকায় আটকে মানুষ, ভূমিধস ও বন্যা
থাইল্যান্ড১৬২অজানাসাতটি প্রদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত
মালয়েশিয়াঅজানাপেরলিস রাজ্যের উত্তরাঞ্চল পানির নিচে, হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রভাবিত মানুষদের ত্রাণ, খাদ্য, নিরাপদ আশ্রয় এবং চিকিৎসা সেবা দ্রুত পৌঁছানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মানবিক সহায়তা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।