দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে

রাজধানীর উপকণ্ঠ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের খেজুরবাগ এলাকায় একটি বসতঘর থেকে ফারজানা আক্তার (২৪) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য মাত্র ১০ দিন আগে গ্রাম থেকে ঢাকায় আসা এই গৃহবধূর এমন আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক থাকায় এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে নিহতের পরিবার।

পারিবারিক পরিচয় ও ঘটনার প্রেক্ষাপট

নিহত ফারজানা আক্তার ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানার ছোট কৈ খালী গ্রামের দুলাল হাওলাদারের জ্যেষ্ঠ কন্যা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে তাঁর স্বামী রিফাতের সঙ্গে ঢাকায় আসেন। তাঁরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের খেজুরবাগ টাইলস মসজিদ গলির জনৈক পরী বানুর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন। ওই বাসায় ফারজানার স্বামী ছাড়াও তাঁর শ্বশুর আবুল কালাম এবং ভাসুর সবুজ থাকতেন।

মৃত্যুর আগে শেষ ফোনালাপ ও স্বজনদের অভিযোগ

নিহতের মা মাকসুদা বেগম এই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ উদ্ধারের কিছুক্ষণ আগে ফারজানার সঙ্গে তাঁর মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে ফারজানা তাঁর মাকে জানিয়েছিলেন যে, ঘরে তাঁর ভাসুর সবুজ প্রবেশ করেছেন এবং এই কথা বলেই তিনি ফোনটি কেটে দেন। এর কিছুক্ষণ পরেই তাঁর মৃত্যুর খবর আসে। স্বজনদের অভিযোগ, ভাসুর সবুজ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকতে পারেন।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারণি:

তথ্যের বিবরণবিস্তারিত তথ্য
নিহতের নাম ও বয়সফারজানা আক্তার (২৪)
গ্রামের বাড়িছোট কৈ খালী, কাঠালিয়া, ঝালকাঠি
মরদেহ উদ্ধারের স্থানখেজুরবাগ, শুভাঢ্যা, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ
মরদেহ উদ্ধারের সময়১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (শনিবার রাত)
পলাতক অভিযুক্তগণস্বামী (রিফাত), শ্বশুর (আবুল কালাম) ও ভাসুর (সবুজ)
বর্তমান অবস্থামরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তাধীন

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও পলাতক স্বামী

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতের স্বামী রিফাত শুরুতে দাবি করেছিলেন যে তিনি কর্মস্থল থেকে ফিরে স্ত্রীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তবে রহস্যজনকভাবে পুলিশ পৌঁছানোর পর থেকে রিফাত, তাঁর বাবা আবুল কালাম এবং ভাই সবুজ পলাতক রয়েছেন। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

আইনি ব্যবস্থা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

নিহতের পরিবার এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি শ্বাসরোধ করে হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে। চিকিৎসার জন্য আসা এক তরুণী গৃহবধূর এমন করুণ মৃত্যুতে পৈত্রিক নিবাস ঝালকাঠিতেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।