দক্ষিণ ইরানের দুইটি শহরে পৃথক দুটি বিস্ফোরণে কমপক্ষে সাতজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তারা শুক্রবারের এই দুর্ঘটনার জন্য গ্যাস লিকেজকে দায়ী করেছেন, তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এই দাবিতে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন গুজব এবং মিডিয়ার রিপোর্ট সমন্বয় করায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস শহরে একটি আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণে অন্তত দুইজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, “প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিকের কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে।”
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস প্রধানও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে একটি আবাসিক বাসিন্দা দাবি করেছেন, “ঘটনার সময় ভবনে গ্যাস সংযোগ চালু ছিল না।” ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, ভবনের দুটি তলা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আশপাশে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে।
ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নিয়ে ওঠা গুজব যে, বন্দর আব্বাস বিস্ফোরণটি তাদের নৌবাহিনীর একজন কমান্ডারকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে, তা তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সি আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, “এ ধরনের কোনও পরিকল্পনা বা হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”
অপরদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ শহরে গ্যাস লিকেজজনিত আরেকটি বিস্ফোরণে পাঁচজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রয়টার্সের উদ্ধৃতিতে দুইজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এসব বিস্ফোরণে ইসরায়েলের কোনও ভূমিকা নেই।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উভয় ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণের সঠিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
নিচের টেবিলে উভয় বিস্ফোরণের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| শহর | বিস্ফোরণের কারণ (প্রাথমিক) | নিহত | আহত | অন্যান্য তথ্য |
|---|---|---|---|---|
| বন্দর আব্বাস | গ্যাস লিকেজ (সরকারি ধারণা) | ২ | ১৪ | ভবনের দুটি তলা ধ্বংস, আশপাশে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে |
| আহভাজ | গ্যাস লিকেজ | ৫ | ৩ | স্থানীয় সূত্রে ভবন ক্ষতির বিস্তারিত পাওয়া যায়নি |
উভয় ঘটনায় স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তল্লাশি বৃদ্ধি করা হবে।
