থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে বন্যার ক্ষতিপূরণ দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ

থাইল্যান্ড সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিমা দাবি প্রক্রিয়া দ্রুত ও সরল করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলিতে বাড়ি ও যানবাহনের ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ছবি-ভিত্তিক প্রমাণ ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে দাবিগুলো গ্রহণযোগ্য হবে, বিশেষ করে যেখানে মূল কাগজপত্র ধ্বংস বা অনুপলব্ধ।

বিমা কমিশনের সাধারণ সম্পাদক চুচত্র প্রামুলপল জানিয়েছেন, সরকারি বৈঠকের পর নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ছবি বা ভিডিওসহ ডিজিটাল প্রমাণও বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে বন্যা আক্রান্ত এলাকায় ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিলম্ব কমানো।

মোটরযানবাহনের জন্য ক্ষতির পাঁচ স্তর নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আনুমানিক ক্ষতির খরচ নিম্নরূপ:

স্তরক্ষতির বিবরণআনুমানিক ক্ষতি (বাত)
পানি শুধু মেঝে স্পর্শ করছে৮,০০০–১০,০০০
বিপানি আসন ও বৈদ্যুতিক সিস্টেমে পৌঁছেছে১৫,০০০–২০,০০০
সিপানি সামনের কনসোলের নীচে পৌঁছেছে২৫,০০০–৩০,০০০
ডিপানি সামনের কনসোলের উপরের অংশে পৌঁছেছে৩০,০০০+
গাড়ি সম্পূর্ণ ডুবে গেছেসম্পূর্ণ বিমা মূল্য

হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে মেঝে পর্যন্ত পানি পৌঁছালে অতিরিক্ত ১,০০,০০০ বাত প্রদান করা হবে। বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য মেঝে পর্যন্ত পানি প্রবেশ করলে সম্পূর্ণ বিমা মূল্য প্রদান বাধ্যতামূলক। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩,০০০টি গাড়ি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আবাসনের ক্ষেত্রে বৈধ বিমা থাকলে বাড়ির জন্য প্রাথমিকভাবে ২০,০০০ বাত এবং দোকানের জন্য ৩০,০০০ বাত প্রদান করা হবে। প্রিমিয়াম নবায়নের সময়সীমা ৯০ দিন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিমার নবায়নের ক্ষেত্রে নতুন মেডিকেল পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

মানবিক ক্ষতিও গুরুতর। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, ২২–২৭ নভেম্বরের মধ্যে আটটি প্রদেশে ২৬৭ জন মারা গেছেন, যার অর্ধেকের বেশি হাটই জেলায়। এই বন্যা পরিস্থিতিতে রেলপথ, সড়ক ও জাহাজ চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

সরকার আশা করছে, দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম বন্যার প্রভাবিত মানুষের জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কিছুটা কমাবে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ছবি ও ডিজিটাল প্রমাণের ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কার্যকর প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা সম্ভব, যা ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়াকে অনেক দ্রুততর করবে।

মোটরযানবাহন ও আবাসনের জন্য নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য বিশেষ বিধান সংযোজন, স্বাস্থ্য বিমার নবায়ন সহজীকরণ এবং প্রিমিয়াম সময়সীমা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য হল ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক ও মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

কথাসংক্ষেপে, থাইল্যান্ড সরকারের উদ্যোগ বন্যা মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।