থাইল্যান্ডের ত্রাত প্রদেশে কারফিউ জারি শুধু একটি সাময়িক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়; এটি দেশটির কৌশলগত ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। কম্বোডিয়ার সঙ্গে চলমান সংঘর্ষে থাইল্যান্ড স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় যে, তারা নিজেদের ভূখণ্ড ও জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করবে না।
এই সংঘাতের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ, উপকূলীয় সম্পদের নিয়ন্ত্রণ এবং সামরিক আধিপত্যের প্রশ্ন। মে মাসে সীমান্ত সংঘর্ষে এক কম্বোডীয় সেনা নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। সীমান্তের উভয় পাশে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা মানবিক সংকটও সৃষ্টি করেছে।
থাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, কম্বোডিয়া শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ না করলে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন তুলেছে—সংঘাত কি আরও বড় আকার নেবে?
কারফিউ কার্যকর এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, দীর্ঘমেয়াদি কারফিউ সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের সমাধানে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সক্রিয় ভূমিকা জরুরি। নাহলে এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে বড় ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।