নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১৩ বছর পূর্ণ হচ্ছে ৬ মার্চ। এই উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিন দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম আয়োজন ৬ মার্চ সকাল ৯.৩০টায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর সিরাজ শাহর আস্তানায় ত্বকীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয়দিন ৮ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালিত হবে। সমাপনী অনুষ্ঠান ১৪ মার্চ বেলা ২টায় ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে বিশেষ সমাবেশের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবেশে বক্তব্য, গান, নাটক ও চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে ত্বকী হত্যার বিচারহীনতার প্রতিবাদ জানানো হবে।
ত্বকী হত্যার ঘটনা ও বিচারবিভাগের সময়রেখা:
| তারিখ | ঘটনা | স্থান | তথ্য/মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ৬ মার্চ ২০১৩ | নিখোঁজ | শায়েস্তা খাঁ রোড, নারায়ণগঞ্জ | ত্বকী বাসা থেকে বের হওয়ার পর অজ্ঞাত স্থানে হারিয়ে যায় |
| ৮ মার্চ ২০১৩ | লাশ উদ্ধার | শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল | পুলিশ উদ্ধার করে লাশ |
| ৫ মার্চ ২০১৪ | র্যাব সংবাদ সম্মেলন | নারায়ণগঞ্জ | জানায়, ওসমান পরিবারের নির্দেশে ১১ জন মিলিত হয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে; অভিযোগপত্র আদালতে পেশের কথা কিন্তু এখনো হয়নি |
| প্রতি মাসের ৮ তারিখ | আলোক প্রজ্বালন ও প্রতিবাদ | নারায়ণগঞ্জ | সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে প্রতিবাদমূলক কর্মসূচি চলমান |
তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট নিয়মিত কর্মসূচি পালন করে আসছে। প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন এবং জনসাধারণের সমাবেশের মাধ্যমে তারা হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতার প্রতিবাদ করে আসছেন।
এই তিন দিনের কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো ত্বকী হত্যার স্মরণ করা এবং সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করা। ত্বকীর পরিবারের সদস্যরা ও শিক্ষার্থী সমাজও এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
মঞ্চের সদস্য হালিম আজাদ জানান, “আমরা চাই এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার পেতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সচেতনতা তৈরি করতে।”
কর্মসূচিটি ত্বকীর স্মরণে শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
