তেহরানের আকাশে ইরানের হাতে ধ্বংস হল সশস্ত্র ড্রোন

ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে রোববার (২২ মার্চ) একটি অত্যাধুনিক সশস্ত্র ড্রোন প্রতিহত করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ মালিকানাধীন ওই ড্রোনটি কোনো হামলা চালানোর আগেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা এই সফল প্রতিরক্ষা অভিযানকে তেহরানের ওপর সম্ভাব্য বিমান হামলার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে তখনই এই ঘটনা ঘটেছে, যখন ইসরায়েলি বাহিনী তেহরানের ওপর নতুন আক্রমণের ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ শুরু হওয়ার পর থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী মোট ১২৭টি উন্নতমানের ড্রোন ধ্বংস করেছে। এগুলো মধ্যে বিভিন্ন মডেলের ড্রোন ছিল, যা ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের সময় নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ধ্বংসকৃত ড্রোনের সংক্ষিপ্ত তথ্য

ক্রমিকড্রোনের উৎসমডেল/ধরনধ্বংসের তারিখলক্ষ্যবস্তু স্থল/এয়ার স্পেস
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলসশস্ত্র নজরদারি ড্রোন২২ মার্চ ২০২৬তেহরান আকাশ
ইসরায়েলআক্রমণাত্মক ড্রোন২০ মার্চ ২০২৬পূর্ব তেহরান
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রনজরদারি ও সশস্ত্র ড্রোন১৮ মার্চ ২০২৬পশ্চিম তেহরান

ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। প্রতিটি অনুপ্রবেশকারী ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করার মাধ্যমে তারা দেশের আকাশসীমা রক্ষা করছে এবং বিশ্ববাসীর কাছে তাদের সামরিক সক্ষমতার শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছিল, তারা তেহরানের বিভিন্ন সরকারি ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু করেছে। রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের বাসিন্দারা দফায় দফায় বিস্ফোরণ এবং আগুনের আলোর সাক্ষী হয়েছেন। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বর্তমানে তেহরানের আকাশজুড়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টাপাল্টি লড়াই অব্যাহত রয়েছে। ইরান দাবি করছে, তারা প্রতিটি অনুপ্রবেশকারী ড্রোনকে শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হচ্ছে, যা সাম্প্রতিক এই সশস্ত্র ড্রোন ভূপাতিতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি সত্যিই ইসরায়েলি ও মার্কিন ড্রোনের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে থাকে, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশযুদ্ধের গতিপ্রকৃতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। তেহরানের আকাশে এই জয় ইরানের মনোবল চাঙ্গা করলেও পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা এখনো নিশ্চিত নয়। পুরো অঞ্চলে মানুষ পরবর্তী বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন।