তেজগাঁওয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারালেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন তেজতুরী বাজার এলাকায় এক ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বির নিহত হয়েছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) রাত সাড়ে আটটার দিকে স্টার কাবাব রেস্তোরাঁ সংলগ্ন একটি গলিতে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে মুছাব্বিরের সাথে থাকা কারওয়ান বাজার ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ানও গুরুতর আহত হয়েছেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ঘটনার বিবরণ ও হামলার ধরন

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজিজুর রহমান মুছাব্বির ও আবু সুফিয়ান স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে আরও কয়েকজন সঙ্গীর সাথে আলাপচারিতায় ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় একটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অতর্কিতে সেখানে হানা দেয়। তারা অত্যন্ত কাছ থেকে মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। একটি গুলি তাঁর পেটে বিদ্ধ হলে তিনি সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করার পর স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা দীর্ঘ চেষ্টার পর মুছাব্বিরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ম্যাচ ও ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো:

হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত বিস্তারিত পরিসংখ্যান

বিষয়ের ক্ষেত্রবিস্তারিত বিবরণ
ভিকটিমের নামআজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির
রাজনৈতিক পরিচয়সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল
আহত ব্যক্তিআবু সুফিয়ান (কারওয়ান বাজার ভ্যান মালিক সমিতির নেতা)
ঘটনার সময়রাত ৮:৩০ টা, বুধবার
হামলার স্থানতেজতুরী বাজার (স্টার কাবাবের পেছনের গলি)
আঘাতের স্থাননিহতের পেটে এবং আহতের শরীরের বিভিন্ন অংশে
বর্তমান অবস্থামুছাব্বির (মৃত), আবু সুফিয়ান (ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন)

পুলিশি তৎপরতা ও তদন্তের সর্বশেষ

পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম জানান, সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেছে। আজিজুর রহমানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বর্তমানে পুলিশ ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘাতকদের শনাক্ত করার জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক কোনো দ্বন্দ্ব বা অন্য কোনো বিরোধ এর পেছনে রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিক্ষোভ ও জননিরাপত্তা

নেতাকর্মীর এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তেজগাঁও ও কারওয়ান বাজার এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ একদল নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনতা রাত নয়টার দিকে কারওয়ান বাজারের ‘সার্ক ফোয়ারা’ মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। জনগণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছালে রাত সাড়ে দশটার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

নিহত মুছাব্বির তেজগাঁও এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন। স্থানীয়দের মতে, বিগত সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক কারণে তিনি বহুবার কারাবরণ করেছিলেন। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।