তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা, কমে যেতে পারে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রিতে

ঢাকা: আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশজুড়ে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ডিসেম্বরে শীতকালে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে, যার মধ্যে অন্তত তিনটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করবে। একই সময়ে শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রঝড়েরও সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ৩ থেকে ৮টি শৈত্যপ্রবাহ প্রবাহিত হতে পারে। এদের মধ্যে কিছু শৈত্যপ্রবাহের তাপমাত্রা ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। এছাড়া মৃদু এবং মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের তাপমাত্রা যথাক্রমে ৮-১০ ডিগ্রি ও ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শৈত্যপ্রবাহের কারণে রাত ও দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গিয়ে শীতের অনুভূতি বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া নদ-নদীর অববাহিকা ও আশপাশের এলাকায় শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা দিতে পারে, যা কখনো কখনো দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, দেশের কিছু স্থানে এক বা দুই দিনের জন্য শিলাবৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় বৈদ্যুতিক ঝড় ও বৃষ্টিপাতের সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি তাপমাত্রা পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

শৈত্যপ্রবাহ ও শিলাবৃষ্টির কারণে জনজীবন ও কৃষিক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে শীতকালীন ফসল, যেমন ধান ও সবজি, সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া জরুরি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মানুষ যেন শীতপ্রবণ রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন।

নিচে তিন মাসের সম্ভাব্য আবহাওয়া সংক্ষেপে দেওয়া হলো:

মাসশৈত্যপ্রবাহের সংখ্যাতাপমাত্রা (ডিগ্রি সেলসিয়াস)বিশেষ পরিস্থিতি
ডিসেম্বর১–৩টি৪–১০মাঝারি কুয়াশা, শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি
জানুয়ারি১–৩টি৫–৯ঘন কুয়াশা, নদী তীরবর্তী এলাকায় শীতের প্রভাব বেশি
ফেব্রুয়ারি১–২টি৬–১০শিলাবৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা, হালকা কুয়াশা

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এই পূর্বাভাস জনগণকে শীতকালীন প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে কৃষক, শিক্ষার্থী এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া যানবাহন চলাচলে কুয়াশা ও শীতের কারণে ধীরগতি এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

পর্যাপ্ত সতর্কতা এবং প্রস্তুতির মাধ্যমে এ ধরনের শীতপ্রবাহ, কুয়াশা, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রঝড়জনিত প্রভাব কমানো সম্ভব। সাধারণ মানুষকে আবহাওয়া সংক্রান্ত আপডেট নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।