দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চৈত্র মাসের শেষ প্রান্তে এসে যখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর ছুঁয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে, তখন রাতের মধ্যেই দেশের কয়েকটি স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোথাও কোথাও ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানান, দেশের বিভিন্ন বিভাগে বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাব বিস্তৃত হয়েছে ঢাকা, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ এবং খুলনা বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট এলাকায়, বিশেষ করে গোপালগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জের নিকলী এলাকায়, বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তাপমাত্রার একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসারে পরিস্থিতি নির্ধারণ করা হয়। ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়, ৩৮ থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি মাঝারি, ৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রির বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এই শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী দেশের একাধিক অঞ্চল বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে রয়েছে।
তাপমাত্রার শ্রেণিবিভাগ
| তাপমাত্রা (ডিগ্রি সেলসিয়াস) | আবহাওয়ার অবস্থা |
|---|---|
| ৩৫-এর নিচে | স্বাভাবিক |
| ৩৬ – ৩৭.৯ | মৃদু তাপপ্রবাহ |
| ৩৮ – ৩৯.৯ | মাঝারি তাপপ্রবাহ |
| ৪০ – ৪১.৯ | তীব্র তাপপ্রবাহ |
| ৪২-এর বেশি | অতি তীব্র তাপপ্রবাহ |
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও এর সংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপের বর্ধিতাংশ সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি লঘুচাপ অবস্থান করছে, যা দেশের আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলছে। এই দুই আবহাওয়াগত সিস্টেমের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও তাপপ্রবাহের মিশ্র পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের অধিকাংশ এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। একই সঙ্গে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
ঢাকায় সোমবার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়েছে। সকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৫৯ শতাংশ। সকাল ৯টায় রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মৃদু তাপপ্রবাহের মধ্যে পড়ে।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রংপুরের রাজারহাটে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক আবহাওয়া নির্দেশ করে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে সিলেটে সর্বোচ্চ ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং লঘুচাপের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে তাপপ্রবাহ পুরোপুরি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা এখনই নেই। বরং দিনের তাপমাত্রা ওঠানামা করলেও গরম পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সময় শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষ করে দুপুরের সময় সরাসরি রোদে কাজ না করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং হালকা পোশাক পরিধান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, একদিকে তীব্র গরমে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, অন্যদিকে রাতের দিকে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। তবে পরিবর্তনশীল এই আবহাওয়ায় আগামী
