তিন শতাধিক সমন্বয়ক ও কর্মীর বিএনপিতে যোগদান: শেরপুরে নতুন মেরুকরণ

শেরপুর জেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি বিশাল অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখালো। জেলা পর্যায়ের প্রধান সমন্বয়ক ও মুখপাত্রসহ আন্দোলনের প্রথম সারির সব নেতা এবং তিন শতাধিক সক্রিয় কর্মী মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছেন। শেরপুর জেলা শহরের রঘুনাথ বাজারস্থ দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই যোগদান কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। ৫ আগস্টের পর শেরপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে এটিই তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে যোগদানকারী তরুণ নেতাদের বরণ করে নেন শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং শেরপুর-১ আসনের মনোনীত সাবেক প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা ও সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হযরত আলী। ডা. প্রিয়াঙ্কা তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জুলাই-আগস্টের বিপ্লবে রাজপথ কাঁপানো এই বীর সন্তানদের জাতীয়তাবাদী দলে স্বাগতম। তাঁদের এই সাহসী সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, বিএনপিই তারুণ্যের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার প্রধান প্ল্যাটফর্ম।”

যোগদানকারী শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের তালিকা নিচে সারণি আকারে দেওয়া হলো:

শেরপুর জেলা বিএনপিতে যোগদানকারী প্রধান ছাত্র নেতৃবৃন্দ

নেতৃবৃন্দের নামবৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দায়িত্ব ও অবস্থান
ফারহান ফুয়াদ তুহিনজেলা প্রধান সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় মুখপাত্র (শেরপুর)
আল মামুন সরকারজেলা সমন্বয়ক
আরাফাত রহমান তালুকদারসমন্বয়ক ও জেলা কমিটির সিনিয়র সংগঠক
নাহিম আহমেদ নিলয়জেলা কমিটির অন্যতম সংগঠক
মো. মনিবুল ইসলামজেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব
শাহরিয়ার নাফিসজেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব
মো. রাহাতজেলা কমিটির সক্রিয় সদস্য
মো. আশিকুর রহমানসদর উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্ররা তাঁদের যোগদানের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে জানান, তাঁরা কোনো পদের আশায় নয়, বরং একটি সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা নিশ্চিত করতেই দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। জেলা প্রধান সমন্বয়ক ফারহান ফুয়াদ তুহিন বলেন, “আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি। এখন সেই বিজয়কে অর্থবহ করতে এবং শেরপুরের গণমানুষের অধিকার আদায়ে আমরা জাতীয়তাবাদী আদর্শকে বেছে নিয়েছি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেরপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক সক্রিয় কর্মীর এই গণ-যোগদান আসন্ন নির্বাচন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বিএনপিকে অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাবে। বিশেষ করে শিক্ষিত ও মেধাবী এই তরুণদের আগমনে দলে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে। সংবাদ সম্মেলন শেষে নবাগত কর্মীদের নিয়ে জেলা শহরে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়, যা রঘুনাথ বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।