তিন মাস পর পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় দীর্ঘ তিন মাস নিখোঁজ থাকার পর মো. তৌহিদুল ইসলাম মোল্যার মরদেহ একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় জনসাধারণ ও প্রশাসনকে শোকস্তব্ধ করেছে এবং এলাকায় গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তৌহিদুল মোল্যা মুকসুদপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের আকতার আলী মোল্লার ছেলে। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর হঠাৎ তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা আশেপাশের এলাকার সম্ভাব্য সব স্থান খুঁজে দেখলেও কোনো হদিস পাননি। এরপর তার বাবা মুকসুদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে পার্শ্ববর্তী ভাকুড়ি গ্রামের একটি কচুরিপানা ভর্তি পুকুরে স্থানীয়রা পরিচ্ছন্নতার কাজ করার সময় পানির নিচে একটি মরদেহ দেখতে পান। তারা চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন জড়ো হন এবং পুলিশকে খবর দেন। মুকসুদপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশ ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, মরদেহটি তৌহিদুলের পরনের পোশাক এবং অন্যান্য চিহ্নের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার কারণে মরদেহটি অত্যন্ত গলিত অবস্থায় ছিল। উদ্ধারকৃত মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “নিখোঁজের তিন মাস পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর নিশ্চিত হবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের মধ্যে শোনা যাচ্ছে, নিখোঁজ হওয়ার পর তৌহিদুলকে পুকুরে ফেলা হতে পারে, তবে বিষয়টি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে জানা যাবে। পরিবার শোকগ্রস্ত এবং পুলিশ তদন্তে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বিষয়বিবরণ
মৃতকাণ্ডের নামমো. তৌহিদুল ইসলাম মোল্যা
বয়সজানা যায়নি
গ্রামের নামলতিফপুর, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ
নিখোঁজ হওয়া তারিখ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
উদ্ধারকৃত তারিখ১৬ মার্চ ২০২৬
উদ্ধার স্থানভাকুড়ি গ্রামের কচুরিপানা ভর্তি পুকুর
উদ্ধারকারীস্থানীয়রা ও মুকসুদপুর থানা পুলিশ
মরদেহের অবস্থাদীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার কারণে গলিত
পরবর্তী ব্যবস্থাময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত বা অন্য কোনো কারণেই মৃত্যু হয়েছে কিনা তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া মাত্র স্পষ্ট হবে। Meanwhile, স্থানীয়রা এবং পরিবার মরদেহ উদ্ধারকে মানসিক ধাক্কা হিসেবে অনুভব করছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রশাসনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।