তাশফী সম্প্রতি তার সংগীত জীবনে এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছেন, যেখানে তিনি প্রথমবারের মতো ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীত জগতে কাজ করার সুযোগ পান। “সাজন রে” শীর্ষক একটি গানের মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে এটি একটি বৃহৎ ও তারকাসমৃদ্ধ সংগীত প্রকল্পে রূপ নেয়, যা তার ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য মোড় এনে দেয়।
তাশফী জানান, পুরো ঘটনার সূচনা হয়েছিল একান্তই বন্ধুত্বের সম্পর্কের সূত্র ধরে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সঞ্জয় দেবের কাজের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। হঠাৎ করেই তিনি একটি স্টুডিওতে গান রেকর্ড করার আমন্ত্রণ পান। তখনো গানটির চূড়ান্ত রূপ বা পরিকল্পনা স্থির ছিল না। ধীরে ধীরে সেই কাজই আরও বিস্তৃত হয়ে একটি বড় সংগীত প্রকল্পে পরিণত হয়, যেখানে পরে যুক্ত হন জনপ্রিয় শিল্পী বাদশাহ ও নোরা ফাতেহির মতো পরিচিত মুখ।
তিনি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, শুরুতে কোনো কিছুই নির্দিষ্ট ছিল না। পরিকল্পনা বারবার পরিবর্তিত হয়েছে এবং প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বড় আকার ধারণ করেছে। তবে এই পুরো অভিজ্ঞতাকে তিনি চাপ হিসেবে নয়, বরং আনন্দদায়ক ও শিক্ষণীয় একটি যাত্রা হিসেবে দেখেন। তার ভাষায়, এটি ছিল “অত্যন্ত আনন্দের” একটি অভিজ্ঞতা।
এই কাজটি তাশফীর সংগীত জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, এটি তাকে প্রথমবারের মতো ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীত জগতের পরিচিত মুখদের সঙ্গে একই প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। পাশাপাশি এটি তার পূর্ববর্তী কাজের ধারাবাহিকতা থেকে একটি বড় অগ্রগতি নির্দেশ করে। তিনি আগেও বিভিন্ন সংগীত মঞ্চে কাজ করেছেন, বিশেষ করে “উইন্ড অব চেঞ্জ” নামক সংগীত কার্যক্রমে তার অংশগ্রহণ তাকে শ্রোতাদের কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত করে তোলে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে নিজেকে প্রমাণ করার চাপ ছিল, এখন তিনি বিষয়টিকে অনেক বেশি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেন। শ্রোতাদের কাছ থেকে তিনি “বাংলাদেশের অ্যাডেল” নামে পরিচিতি পেলেও, তিনি এই তুলনাকে কেবল বাহ্যিক হিসেবে দেখেন এবং নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
তিনি আরও জানান, তার ভেতরে এখন অনেক নতুন গান ও গল্প জমা আছে, যা তিনি ভবিষ্যতে প্রকাশ করতে চান। সংগীতের মাধ্যমে গল্প বলার ক্ষেত্রে তার বোঝাপড়া আগের তুলনায় অনেক গভীর হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, সংগীত কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি মানুষের অনুভূতি প্রকাশের একটি শক্তিশালী ভাষা।
নতুন শ্রোতাদের কাছে তিনি চান তার কণ্ঠ যেন এক ধরনের শান্ত ও আরামদায়ক অনুভূতি তৈরি করে। তার লক্ষ্য হলো শ্রোতাদের আবেগকে স্পর্শ করা এবং একই সঙ্গে তাদের বিনোদন দেওয়া।
বাংলাদেশি শিল্পীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়ছে—এই বাস্তবতায় তাশফী এটিকে একদিকে সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে এর ভেতরে থাকা চ্যালেঞ্জও উপলব্ধি করছেন। দেশের ভেতর থেকেই একটি সংগীত জীবন গড়ে তোলা সহজ নয় বলে তিনি মনে করেন, তবে এই বাধাগুলো তাকে আরও দৃঢ় করেছে।
তার সংগীত যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| পর্যায় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রাথমিক পরিচিতি | বিভিন্ন সংগীত মঞ্চে অংশগ্রহণ |
| বড় পরিচিতি | “উইন্ড অব চেঞ্জ” কার্যক্রমে অংশগ্রহণ |
| গুরুত্বপূর্ণ মোড় | সঞ্জয় দেবের সঙ্গে “সাজন রে” প্রকল্পে যুক্ত হওয়া |
| বিস্তৃত সংযোগ | বাদশাহ ও নোরা ফাতেহির সঙ্গে একই গানে কাজ |
| বর্তমান অবস্থান | ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীত জগতে প্রথম বড় অভিষেক |
সবশেষে তাশফী তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, তিনি এমন সুযোগের অপেক্ষায় আছেন যা তাকে নতুন নতুন গান ও সৃষ্টির পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। তার ভাষায়, সংগীত জীবনের পরবর্তী অধ্যায় তার কাছে সবসময়ই নতুন কিছু সৃষ্টির এক অবিরাম যাত্রা।
