জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে তালাক না দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ নিয়ে আদালতে নতুন করে সাক্ষ্য দিয়েছেন তারা। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে সোমবার (৩০ মার্চ) উপস্থিত হয়ে তামিমা তম্মি ও নাসির হোসেন নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন এবং ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
তামিমা তম্মি আদালতে বলেন, “আমরা যথাযথভাবে বিয়ে সম্পন্ন করেছি। আমার আগের স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং তালাক বিষয়ক অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা কারো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কিছুই করি নি। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন।”
মামলার বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় নাসির ও তামিমার বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে তামিমার প্রাক্তন স্বামী রাকিব অভিযোগ করেন যে, তিনি তালাক না দিয়ে তামিমা দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে রাকিব ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পরে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের আগে তালাকের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে কি না, তা যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে। আদালতের নির্দেশক্রমে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার নিয়ম অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসির ও তামিমাকে ৫–৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
আইনি বিশেষজ্ঞরা জানান, “বিয়ের আগে তালাক প্রদানের অভাব থাকলে এটি আইনগতভাবে কঠোর দণ্ডের আওতায় পড়ে। তবে অভিযুক্তরা যদি প্রমাণ দিতে পারেন যে পূর্ববর্তী বিয়ে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসারে শেষ হয়েছে, তাহলে রায় তাদের পক্ষেও আসতে পারে। আদালত উভয় পক্ষের সাক্ষ্য, দলিল ও প্রমাণ যাচাই করার পর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে।”
নিচে মামলার প্রধান তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ | বর্তমান পরিস্থিতি |
|---|---|---|
| বিয়ের তারিখ | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | উত্তরার রেস্তোরাঁয় সম্পন্ন |
| অভিযোগকারী | রাকিব (প্রাক্তন স্বামী) | তালাক না দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের |
| মামলা দায়ের তারিখ | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে |
| পিবিআই প্রতিবেদন | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | আদালতে দাখিল |
| আদালতের অভিযোগ গঠন | ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | আসামিদের বিরুদ্ধে |
| সম্ভাব্য শাস্তি | ৫–৭ বছরের কারাদণ্ড | আদালতের রায়ে নির্ধারিত হবে |
আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রমাণ ও দলিল যাচাইয়ের ভিত্তিতে আদালত ন্যায্য রায় প্রদান করবেন। সামাজিক ও আইনি দিক থেকে এই মামলাটি নজরকাড়া হওয়ায় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি বাংলাদেশে বিয়েবিচ্ছেদ ও তালাক সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বও পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
