তারকারা স্মরণ করলেন প্রথম সিনেমা দেখার মুহূর্ত

সিনেমা হলে প্রথম সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা জীবনের এক অম্লান স্মৃতি হয়ে থাকে। ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে হলের সেই যাত্রা চিরকাল মনে থাকে, আর দেশের তারকা শিল্পীরাও এই অভিজ্ঞতা থেকে বাদ নন। সম্প্রতি ঈদকে সামনে রেখে চারজন জনপ্রিয় তারকা—শাকিব খান, আরিফিন শুভ, শরীফুল রাজ ও তাসনিয়া ফারিণ—তাদের প্রথম সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা দ্য ডেইলি স্টার-কে শেয়ার করেছেন।

ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার শাকিব খান জানালেন, ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে প্রথম সিনেমা দেখার উত্তেজনা কতটা ছিল। তিনি বলেন, “শাবানা ম্যাডাম অভিনীত সিনেমা দেখেছিলাম, নাম মনে নেই। তবে সেটা নারায়ণগঞ্জের একটি সিনেমা হলে হয়েছিল। চোখ বন্ধ করলে সেই দিন যেন চোখের সামনে ভাসতে থাকে।” শাকিব আরও জানান, নিজের অভিনীত প্রথম সিনেমা “অনন্ত ভালোবাসা” তিনি অর্ধেক-অর্ধেক করে দেখেছিলেন মধুমিতা ও অভিসার সিনেমা হলে।

অভিনেতা আরিফিন শুভ প্রথম সিনেমা দেখার স্মৃতি মনে করে বলেন, “পরিবারের সঙ্গে ময়মনসিংহের পূরবী সিনেমা হলে দেখেছিলাম ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, যা পরিচালনা করেছিলেন সোহানুর রহমান সোহান। সালমান শাহ ও মৌসুমী ছিলেন প্রধান চরিত্রে।”

শরীফুল রাজ জানান, তার প্রথম সিনেমা দেখা ১৯৯৬ সালে, পরিবারের সঙ্গে। তিনি বলেন, “সালমান শাহ অভিনীত ও ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘সত্যের মৃত্যু নেই’ দেখেছিলাম। সিলেটের একটি হলে দেখেছি, নাম মনে নেই। তবে সেই স্মৃতি আজও অমলিন।”

অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ প্রথম সিনেমা দেখার স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, “পরিবারের সঙ্গে কক্সবাজারে হুমায়ুন আহমেদ পরিচালিত ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ দেখেছিলাম। তখন বয়স খুবই কম। তাই হলের নাম মনে নেই। তবে সেই অনুভূতি আজও ভোলা যায়নি।”

নিচের টেবিলে চারজন তারকার প্রথম সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতার মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

তারকাপ্রথম সিনেমাপরিচালকস্থানমন্তব্য
শাকিব খানশাবানা ম্যাডাম অভিনীত সিনেমা (নাম অজানা)অজানানারায়ণগঞ্জমায়ের সঙ্গে প্রথম সিনেমা; উত্তেজনা মনে আছে
শাকিব খানঅনন্ত ভালোবাসাসোহানুর রহমান সোহানমধুমিতা ও অভিসার সিনেমা হলনিজের প্রথম অভিনীত সিনেমা
আরিফিন শুভকেয়ামত থেকে কেয়ামতসোহানুর রহমান সোহানময়মনসিংহ, পূরবী সিনেমা হলপরিবারের সঙ্গে প্রথম সিনেমা দেখা
শরীফুল রাজসত্যের মৃত্যু নেইছটকু আহমেদসিলেট (হলের নাম অজানা)প্রথম সিনেমা দেখার স্মৃতি অমলিন
তাসনিয়া ফারিণশ্রাবণ মেঘের দিনহুমায়ুন আহমেদকক্সবাজার (হলের নাম অজানা)পরিবারিক অভিজ্ঞতা; মনে অমলিন অনুভূতি

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রথম সিনেমা দেখার স্মৃতি শুধু বিনোদনের অভিজ্ঞতা নয়, এটি তারকার ব্যক্তিত্ব ও পেশাগত জীবনের ওপরও প্রভাব ফেলে। পরিবারের সঙ্গে সেই মুহূর্তগুলো স্মৃতিমধুর হয়ে থাকে এবং ভবিষ্যতের সিনেমা প্রেম ও পেশাগত অনুপ্রেরণার জন্য প্রেরণা যোগায়।

শাকিব, শুভ, রাজ ও ফারিণের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, ছোটবেলা থেকে শুরু হওয়া সিনেমা প্রেম এবং প্রথম হলের যাত্রা তাদের জীবনের এক অম্লান অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। এ স্মৃতি তাদের পেশাদারিত্বের পাশাপাশি দর্শকপ্রেম ও শিল্পীজীবনের প্রতি আবেগও বাড়িয়ে দিয়েছে।