তানজিদ হোক বাংলাদেশের নতুন ওপেনিং আশা

বাংলাদেশ ক্রিকেটে ওয়ানডেতে নতুন ওপেনারের সম্ভাবনা জেগেছে—তানজিদ হাসান। আগের ওয়ানডে ম্যাচে সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসানের ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ের পথ প্রশস্ত করেছিল। তবে তানজিদ সাম্প্রতিক সময়ে নিজের ব্যাটিং ফর্মে দারুণ উন্নতি দেখিয়ে জাতীয় দলে পুনরায় সুযোগ তৈরি করেছেন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে তানজিদ ৪২ বলে ৬২ রান করেন, যেখানে তিনি ৪টি চার এবং ৫টি ছক্কা হাঁকান। সেই ইনিংস বাংলাদেশকে ১৫.১ ওভারে জয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। নাহিদ রানার বোলিং তোপে পাকিস্তান ১১৪ রানে অলআউট হয়, যা প্রমাণ করে তানজিদের ভয়বিহীন ব্যাটিং প্রতিপক্ষের জন্য কতটা বিপজ্জনক। দলের কোচ মাইক হেসেনও বলেছেন, “কম রান ডিফেন্ড করতে গেলে নিয়মতান্ত্রিক বোলিং দিয়ে চাপ তৈরি করা কঠিন। খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা দিতে হয়—এটাই আমরা চাই।”

তানজিদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের একটি সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান:

টুর্নামেন্ট/ফরম্যাটইনিংসরানগড়স্ট্রাইক রেটহাইলাইট
বিসিএল ওয়ানডে 2026১৮৭৪৬.৭৫১০৯.৩৬১ অর্ধশতক
বিসিএল অল স্টারস প্রস্তুতি ম্যাচ১০০+সেঞ্চুরি
ওয়ানডে পাকিস্তান সিরিজ 1ম ম্যাচ৬২১৫০+৪ চার, ৫ ছক্কা
টি-টোয়েন্টি ২০২৫সর্বোচ্চ রান

তানজিদের জাতীয় দলে নেওয়া হয়েছিল আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় সৌম্য সরকারকে বাদ দিয়ে। এই সুযোগ তিনি কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছেন এবং নতুন ব্যাটিং অর্ডারে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেছেন। লিটন দাস পাঁচে এবং মেহেদী হাসান মিরাজ সাত নম্বরে ব্যাটিং করবেন। তবে ওপেনিং জুটি চূড়ান্ত হয়নি—তানজিদের পারফরম্যান্সই আগামী ম্যাচে সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশ এ বছর মোট ২২টি ওয়ানডে খেলার পরিকল্পনা করেছে। র‍্যাঙ্কিংয়ে অন্তত সেরা নয়ে অবস্থান নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তানজিদের সাবলীল ও স্বাধীনচেতা ব্যাটিং তাকে ওয়ানডেতে এক নম্বর ওপেনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে এগিয়ে রাখছে।

যদিও এখনও ওয়ানডেতে কোনো সেঞ্চুরি নেই, তানজিদের ভয়বিহীন ব্যাটিং তাকে প্রতিযোগীদের তুলনায় এগিয়ে রাখে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী সূচনা তিনি করেছেন, বাকি দুই ম্যাচে পারফরম্যান্স কেমন হবে, তা এই প্রশ্নের উত্তর দেবে—তানজিদ কি সত্যিই বাংলাদেশের ওয়ানডে দলেও প্রধান ওপেনার হবেন, তা দেখার বিষয়।

এই সিরিজে তার পারফরম্যান্সই হবে মূল পরীক্ষার মঞ্চ।