মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ এক ব্যতিক্রমী ক্রিকেটীয় আবহে মুখোমুখি হয়েছিল জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে গঠিত ‘বিসিবি একাদশ’ এবং বিসিএলে (বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ) উজ্জ্বল পারফরম্যান্স করা ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে গড়া ‘বিসিএল ওয়ানডে অল স্টারস একাদশ’। মাঠে এক দলের গায়ে ছিল চিরচেনা বেগুনি জার্সি, অন্যদিকে অল স্টারস দলের ক্রিকেটারদের গায়ে ছিল হরেক রঙের জার্সি, যা দর্শকদের কিছুটা বিভ্রান্ত করলেও খেলার রোমাঞ্চে কোনো কমতি ছিল না। মূলত বিসিবি প্র্যাকটিস ম্যাচের জন্য নতুন জার্সি বরাদ্দ না করায় ক্রিকেটাররা বিসিএলে নিজেদের দলের জার্সি পরেই মাঠে নেমেছিলেন। প্রস্তুতিমূলক এই ম্যাচে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি এবং লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের পাঁচ উইকেটের সুবাদে ৪০ রানের জয় পেয়েছে বিসিবি একাদশ।
ব্যাটিংয়ে তানজিদ ও লিটনের ছন্দে ফেরা
২০২৬ সালে বাংলাদেশ দলকে মোট ২২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে হবে। আগামী বছরের বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে সেরা নয়ে থাকার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যদের সামনে। সেই লক্ষ্যেই আজ একটি নতুন ব্যাটিং অর্ডার পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বিসিবি একাদশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৯৫ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়।
ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিম ছিলেন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক। ৫৮ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর তিনি শতকের দেখা পান ১০১ বলে। তবে তাঁর সঙ্গী সাইফ হাসান কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন, ৪৭ বলে মাত্র ২২ রান করে তিনি সাজঘরে ফেরেন। তিন ও চার নম্বর পজিশনে সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত আজ নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। তবে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক ছিল লিটন দাসের ব্যাটিং। টপ অর্ডারে টানা ব্যর্থতার পর আজ মিডল অর্ডারে নেমে ৩৮ বলে ৪৪ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি।
নিচে বিসিবি একাদশের ব্যাটিং পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| ব্যাটসম্যানের নাম | রান | বল সংখ্যা | চার/ছক্কা |
| তানজিদ হাসান তামিম | ১০১ | ১০৬ | ১১/২ |
| সাইফ হাসান | ২২ | ৪৭ | ২/০ |
| লিটন দাস | ৪৪ | ৩৮ | ৪/১ |
| আফিফ হোসেন | ২৯ | ২৮ | ৩/০ |
| মেহেদী হাসান মিরাজ | ২৪ | ১৫ | ১/২ |
রিশাদের ঘূর্ণি ও অল স্টারসের লড়াই
২৯৬ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে রিশাদ হোসেনের লেগ স্পিনের তোপে পড়ে বিসিএল অল স্টারস একাদশ। এক সময় ১৫৭ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে তারা। রিশাদ ১০ ওভার বল করে মাত্র ৪০ রান দিয়ে তুলে নেন ৫টি উইকেট। তবে জাতীয় দলের বাকি বোলাররা অল স্টারসের লেজ ছাঁটাই করতে বেশ বেগ পেয়েছেন। নবম উইকেট জুটিতে রিপন মণ্ডল ও গাফফার সাকলাইন ৮০ রানের প্রতিরোধ গড়ে তুললে পরাজয়ের ব্যবধান কমে আসে। শেষ পর্যন্ত অল স্টারস একাদশ ৯ উইকেটে ২৫৫ রান তুলতে সক্ষম হয়।
| বোলার (বিসিবি একাদশ) | ওভার | রান | উইকেট | ইকোনমি |
| রিশাদ হোসেন | ১০ | ৪০ | ৫ | ৪.০ |
| মেহেদী হাসান মিরাজ | ১০ | ৪২ | ১ | ৪.২ |
| অন্যান্য | ৩০ | ১৭৩ | ৩ | ৫.৭ |
জাতীয় দলের জন্য এই ম্যাচটি ছিল মূলত পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের একটি প্রস্তুতি। ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস এবং রিশাদের ফর্ম নির্বাচকদের স্বস্তি দিলেও, শেষ দিকের বোলিং নিয়ে কিছুটা চিন্তার অবকাশ রয়ে গেছে।
