ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে শিশু কাজী ফুজাইল (২) অপহরণের মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। রোববার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কেশবপুর বাজার এলাকা থেকে শাহনেওয়াজ চৌধুরী বাপ্পারাজ (৩০) নামের প্রধান আসামিকে আটক করা হয়। সোমবার র্যাব এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শিশু ফুজাইলের অপহরণ ঘটে গত ২১ মার্চ, ঈদের দিন। অসুস্থ নানাকে দেখতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢামেকে যাওয়ার সময় শিশুটি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়। পরে অপহরণকারীরা শিশুটির মুক্তিপণ হিসেবে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। অপহরণের অভিযোগে শিশুর বাবা শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।
র্যাব সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও শিশুটিকে উদ্ধার করার জন্য ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রথমে রাজধানীর ধলপুর এলাকা থেকে আরেক অপহরণকারী এম এম তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী রাতে প্রধান আসামি শাহনেওয়াজকে হবিগঞ্জ থেকে আটক করে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়।
র্যাবের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শিশু ফুজাইল বর্তমানে পরিবারের নিরাপদে রয়েছে।
শিশু অপহরণ ও মুক্তিপণ চাওয়ার এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তে থাকা অপরাধ প্রবণতার একটি উদ্বেগজনক ছবি তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ও জনসমাগমস্থলে আরও কঠোর নজরদারি জরুরি।
নিচের টেবিলে ঘটনাটির মূল সময়রেখা ও অভিযুক্তদের তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| তারিখ ও সময় | ঘটনা | অভিযুক্ত/প্রত্যক্ষ ব্যক্তি | অবস্থান | Remark |
|---|---|---|---|---|
| ২১ মার্চ, দুপুর | শিশু ফুজাইল ঢামেকে নিখোঁজ | অজ্ঞাত অপহরণকারী | ঢামেক, ঢাকা | মুক্তিপণ দাবি ৩.৫ লাখ টাকা |
| ২১ মার্চ, রাত | এম এম তানভীর গ্রেপ্তার | এম এম তানভীর (অপহরণকারী) | ধলপুর, ঢাকা | তথ্যের ভিত্তিতে মূল আসামি শনাক্ত |
| ২২ মার্চ, রাত ১.৩০ | প্রধান আসামি শাহনেওয়াজ গ্রেপ্তার | শাহনেওয়াজ চৌধুরী বাপ্পারাজ (৩০) | কেশবপুর বাজার, শায়েস্তাগঞ্জ, হবিগঞ্জ | পুলিশে হস্তান্তর |
র্যাব জানিয়েছে, অভিযান চলমান থাকবে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, নাগরিকদের সতর্ক থাকা ও শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।
চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুঙ্গে, যাতে ভবিষ্যতে শিশু অপহরণের মতো ঘটনায় সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়। শিশুর পরিবারের সঙ্গে পুলিশের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার সমাজে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
শিশু ফুজাইল বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে নিরাপদে অবস্থান করছে এবং র্যাব সতর্কতা অব্যাহত রাখবে, যাতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
