ঢামেক-ঢাবি শিক্ষার্থী সংঘর্ষ, তিন ইনজেকশন নিয়ে উত্তেজনা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে একিউট প্যানক্রিয়াটাইটিস আক্রান্ত ঢাবি ছাত্র সানিম এবং চিকিৎসক দলের মধ্যে হাতাহাতিতে রূপ নেওয়া সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ছাত্র সানিম বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার রনি তাকে জরুরি ভিত্তিতে তিনটি ইনজেকশন দেওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।

খোঁজ-খবর অনুযায়ী, হাসপাতালে থাকা তিনটি ইনজেকশন—অ্যালজিন, ন্যালবান-২ এবং কোসেক—সাপ্লাই শেষ হয়ে গেছে। ছাত্র সানিম সহপাঠীদের সঙ্গে এগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজের আশপাশের ফার্মেসি খুঁজতে গিয়ে ব্যর্থ হন। ইনজেকশন পাওয়া না যাওয়ায় তিনি এবং সহপাঠীরা হতাশ ও উত্তেজিত হয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে বাক্যালাপের উত্তেজনা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ঘটনাটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কিছু সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর জরুরি প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে আমরা তাকে ইনজেকশন দিয়েছি। তবে বাইরের বাজারে এই ইনজেকশনগুলো পাওয়া যাচ্ছে না, যা আমাদের জানা ছিল না। এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

প্রায় তিন-চার দিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার ফার্মেসিগুলোতে এই ইনজেকশন পাওয়া যাচ্ছিল না। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের সরবরাহের ঘাটতির কারণে এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পর রাতে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লক-এ জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম, পুলিশি কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি। বৈঠকে ঘটনায় তদন্তে একটি কমিটি গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

নিচের টেবিলে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

সূচকতথ্যমন্তব্য
ঘটনাঢামেক জরুরি বিভাগে শিক্ষার্থী-চিকিৎসক সংঘর্ষএকিউট প্যানক্রিয়াটাইটিসে জরুরি চিকিৎসা চলাকালীন
সময়৮ এপ্রিল, ২০২৫ বিকেলবুধবার বিকেলে জরুরি বিভাগে সংঘটিত
স্থানঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালজরুরি বিভাগ এবং হাসপাতাল আশপাশের ফার্মেসি
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসানিম (ঢাবি ছাত্র), ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার রনিছাত্র-চিকিৎসক সংঘর্ষে প্রত্যক্ষ
ইনজেকশনঅ্যালজিন, ন্যালবান-২, কোসেকহাসপাতাল ও বাইরের ফার্মেসিতে ঘাটতি
বৈঠক ও পদক্ষেপপ্রশাসনিক বৈঠক, তদন্ত কমিটি গঠন প্রস্তাবস্বাস্থ্য অধিদপ্তর, প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ অংশগ্রহণ
সমস্যা মূলইনজেকশন সরবরাহ না থাকাজরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা পূরণে ব্যর্থতা
প্রভাবউত্তেজনা, হাতাহাতিরোগী ও চিকিৎসক উভয়ের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে

সংক্ষেপে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তিনটি ইনজেকশন না পাওয়ার কারণে ঘটে যাওয়া ঢাবি শিক্ষার্থী ও চিকিৎসক সংঘর্ষ দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা সংস্থার মধ্যে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। প্রশাসনিক ও তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বিবেচনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন উত্তেজনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।