ঢাবিতে মুজিব হলের নাম বদলে শহীদ ওসমান হাদি হল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ঐতিহ্যবাহী আবাসিক হল শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে একদল শিক্ষার্থী ক্রেন ব্যবহার করে হলের প্রধান ফটকে থাকা আগের নাম মুছে নতুন নামটি লিখে দেন। ঘটনাটি ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের আঁধারে শিক্ষার্থীদের একটি দল পরিকল্পিতভাবে হলের সামনে জড়ো হয়। ক্রেনের সহায়তায় তারা ফটকের উপরের অংশে ওঠে এবং সেখানে থাকা ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নামটি অপসারণ করে স্পষ্ট অক্ষরে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লিখে দেয়। এ সময় সেখানে স্লোগান ও প্রতিবাদী বক্তব্যও শোনা যায়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আহমেদ আল সাবাহ গণমাধ্যমকে জানান, শুধু নাম পরিবর্তনেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে না। হলের দেয়ালে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের গ্রাফিতি মুছে সেখানে শহীদ ওসমান হাদির গ্রাফিতি অঙ্কনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, ওসমান হাদি বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের প্রতীক। তার স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ।”

এদিকে এই নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বড় আন্দোলনের প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে। শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি ফজিলাতুন্নেছা হলের নাম বদলে ‘ফেলানী হল’ অথবা ‘ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম হল’ করার দাবিও তুলেছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। এসব দাবির পক্ষে আজ রোববার দুপুর আড়াইটায় উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের পাঠানো এক বার্তায় এই কর্মসূচির তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বার্তায় বলা হয়, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও দাবির বহিঃপ্রকাশ। তারা চান, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও স্থাপনাগুলোর নামকরণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হোক এবং সময়ের প্রেক্ষাপটে নতুন করে ভাবা হোক।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এ ঘটনায় প্রশাসন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। নাম পরিবর্তনের এই উদ্যোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি, ইতিহাস ও স্মৃতিচর্চা নিয়ে নতুন বিতর্কের দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।