Table of Contents
ঢাবিতে গোলাম আযমের ছবি টানানো ঘিরে বিতর্ক: শিক্ষাঙ্গনে তুমুল আলোচনা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশে সম্প্রতি এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যা মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চলাচলের পথে পা দিয়ে踏নোর জন্য ঘৃণার প্রতীক হিসেবে জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের ছবি মেঝেতে স্থাপন করেছে—এমন একটি ভিডিও গত কয়েক ঘণ্টায় ইউটিউব ও ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, পথচারীরা হলের প্রবেশমুখ বা করিডোরের একাংশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় সরাসরি ছবিটির উপর দিয়ে হাঁটছেন। প্রকাশিত ক্লিপে কিছু শিক্ষার্থীকে মন্তব্য করতে শোনা যায়—এটি ছিল প্রতীকী প্রতিবাদ, যার উদ্দেশ্য মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির প্রতি ঘৃণা ও বিরোধিতা প্রকাশ করা। তবে যে মুহূর্তে ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে, তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়। অনেকে বিষয়টিকে সাহসী প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এমন প্রতীক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
কোথায় প্রকাশিত? কী দেখা গেছে?
ঘটনার প্রাথমিক সূত্র পাওয়া গেছে কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত ভিডিও ও পোস্ট থেকে। সেগুলোতে উল্লেখিত তথ্যগুলো নিম্নরূপ—
| প্ল্যাটফর্ম | কী দেখা গেছে | মন্তব্য |
|---|---|---|
| YouTube ভিডিও | ছাত্রদের স্থাপন করা গোলাম আযমের ছবি—যার ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে মানুষ | ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে আলোচনার জন্ম দেয় |
| Facebook পোস্ট | একই ভিডিও বা স্থিরচিত্র বিভিন্ন পেজে শেয়ার | অনেকে সমর্থন, কেউ নিন্দা জানায় |
| নিউজভিত্তিক পেজ | সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাসহ আপলোড | মূলধারার গণমাধ্যমে এখনও বিস্তারিত প্রতিবেদন সীমিত |
যদিও বড় জাতীয় দৈনিক বা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি, তবে বিশ্ববিদ্যালয়-সংক্রান্ত অনলাইন কমিউনিটি ও স্বাধীন সংবাদচ্যানেলগুলো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
ঘটনাটি ঢাবির শিক্ষাঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। গোলাম আযমকে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে তার নাম জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত হিসেবে কঠোরভাবে সমালোচিত হয়ে এসেছে।
সুতরাং তার ছবি পায়ের নিচে রাখাকে কেউ কেউ ঐতিহাসিক প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের বক্তব্য—মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের প্রতি সমাজের ঘৃণা প্রকাশের এটি এক দৃশ্যমান মাধ্যম।
অন্যদিকে, বিরোধী মতাবলম্বীরা বলছেন—পায়ের নিচে ছবি রাখা “সাংস্কৃতিকভাবে অরুচিকর” এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসমাজের মানসিকতাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন—এটি প্রতীকী প্রতিবাদ হলেও এর প্রয়োজনীয়তা বা সময়োপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সমাজে আলোড়ন
সামাজিক মাধ্যমে নানা মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। কেউ এটাকে ‘দুর্দান্ত প্রতিবাদ’ বলছেন, কেউ ‘শিক্ষাঙ্গনের নতুন রূপক’। আবার কেউ সতর্ক করছেন—এ ধরনের ঘটনা যাতে অযথা বিভাজন সৃষ্টি না করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিতর্ক আমাদের অতীত ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের ভূমিকা এবং শিক্ষাঙ্গনে প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে নতুন চিন্তার পথ খুলে দিয়েছে।